অধ্যাপক শফিউল হত্যা: দুই বছরেও অভিযোগ গঠন হয়নি

রাবি শিক্ষক ড. শফিউল হত্যাকাণ্ডরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযোগ গঠন হয়নি।  আসামিরা রয়েছেন জামিনে। হত্যার এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে এখনও অভিযোগপত্র গ্রহণ করেননি আদালত।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘এই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত যুবদল নেতা উজ্জ্বলসহ ১১ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছে। মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ আগামী শুনানিতে অভিযোগ গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের এক বছরে মাথায় ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক। অভিযোগপত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শিক্ষক শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর ফেসবুকে দেওয়া দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের স্ট্যাটাসের কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়।

অভিযোগপত্রে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আব্দুস সামাদ পিন্টু, আরিফুল ইসলাম মানিক, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ, আল মামুন, আরিফ, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহিম খলিল ও নাসরিন আখতার রেশমাকে আসামি করা হয়। তারা সবাই গ্রেফতার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে নাসরিন আখতার রেশমা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধনএদিকে, এ হত্যার দুই বছর পূর্তিতে দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সমানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী যোগ দেন।

মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ারদাতুল আকমাম বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা যে দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম আজ আবারও একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। স্যার আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না এটা ঠিক, তবে হত্যাকারীরা শাস্তি পেলে স্যারের পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থীরা একটু হলেও প্রশান্তি পাবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত এক যুগে চারটি হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই একসাথে সুর মিলিয়ে বলতে হবে, দ্রুত বিচার চাই, যাতে আমাদের ক্ষত একটু হলেও শুকায়।’ তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্য পরিচালনা করার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা কেমন, সেটা আপনি ভালো করেই বোঝেন। তাই আপনার কাছে দাবি জানাচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করার।’

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সমাজকর্ম  বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন ও আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান। মানববন্ধনে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দুই টাকার নতুন নোটের দাম পাঁচ রুপি!

 

/বিটি/