জানা গেছে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ৯০’র স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহীদ জিয়াবুলের মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ছাত্র লীগের আয়োজনে শোক র্যা লি করার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধীসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এসময় কলেজে আতঙ্ক তৈরি করতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইসলাম ইতিহাস বিভাগের আবদুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে। ওই শিক্ষার্থী তাদের হাত থেকে বাঁচতে দর্শন বিভাগে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা সেখানেও ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করতে থাকে এবং দর্শনে বিভাগে ভাঙচুর চালায়। এসময় বাধা দিতে গেলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানও হামলার শিকার হন। পরে পুলিশ ওই আহত শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকের তিন ঘণ্টা পর ওই শিক্ষার্থীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হামলার ঘটনা শুনে কলেজের অধ্যক্ষ মো. হবিবুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগকে থামাতে গেলে ছাত্রলীগ তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এর এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা অধ্যক্ষের ওপর হামলা চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাকে রক্ষা করে।
এদিকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান জানান, তার সঙ্গে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে ছাত্রলীগের কলেজ আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, প্রত্যেক বছর ছাত্রদলের কর্মীরা শহীদ জিয়াবুলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এবারও তারা সেই চেষ্টা করেছিল। তারা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটা আর বরদাস্ত করা হবে না। মঙ্গলবার এর প্রতিবাদে কলেজে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈমের নেতৃত্বে বহিরাগত কর্মী এনে এই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
/এআর/