বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি গাছের নিচে প্রসবের পর মারা যাওয়া শিশুর মরদেহ শনিবার সকালে গাড়িদহ কবরস্থান থেকে তোলা হয়েছে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ তুলে ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শিশুর লাশ উত্তোলনের সময় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক ও পুলিশের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
ওসি বলেন, তদন্তের স্বার্থে ১৯ দিন পর লাশ তুলে ময়ণাতদন্ত শেষে আবার দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে উপজেলার গাড়িদহ গ্রামের চাতাল শ্রমিক ইলিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী মাজেদা বিবির প্রসব ব্যথা ওঠায় তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সিনিয়র নার্স সুষমা রানী তাদের জানান, বাচ্চা উল্টে আছে, সিজার করতে হবে। তখন ওই নার্স তাদের পার্শ্ববর্তী মডার্ন নামে একটি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু রুম থেকে বের হবার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে মাজেদা বিবি কন্যা শিশু প্রসব করেন। একটু পর শিশুটি মারা যায়। এ ব্যাপারে ইলিয়াস উদ্দিন ২৯ নভেম্বর শেরপুর থানায় একটি মামলা করেন। দ-বিধির ৩১৫ ও ৩০৪ (ক) ধারায় মামলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের চিকিৎসক মোস্তফা আল্লাম তালুকদার পিয়াল ও নার্স সুষমা রানীকে আসামি করা হয়।
বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এলে একটি বেঞ্চ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। গত ৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব একেএম ফজলুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সবিতা রানী মুখার্জি। পাশাপাশি ১ ডিসেম্বর বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার এসআই শামসুজ্জোহা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে আবেদন করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিককে দায়িত্ব দিয়ে আদালতের বিচারক অভিজিৎ রায় মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
/এইচকে/