ঘরে ঢুকে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২

জয়পুরহাটজয়পুরহাটের কালাইয়ে ঘরে ঢুকে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায়  দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল বাহার  তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বজিৎ বর্মণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কালাইয় উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বানদিঘী গ্রামের মাহবুব মণ্ডল (৪০) ও এজাবুল ইসলাম (২৭)। বুধবার রাতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে জয়পুরহাট শহরে মাননবন্ধন করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

কালাই থানা সূত্রে জানা গেছে,ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতে বানদিঘী গ্রামের মাহবুব মণ্ডল (৪০) ও ফেরাজ উদ্দিনের ছেলে এজাবুল ইসলামকে (২৭)পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক ছিল বলে দাবি পুলিশের।
তবে আদালত ভবনে স্বামী মাহবুব মণ্ডলের খোঁজ নিতে আসা স্ত্রী নাশপাতি বেগম জানান,গত মঙ্গলবার তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে পুলিশ। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ অবস্থায় তাকে মারপিট করার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ সাতটি মামলা দায়ের হলেও সঠিক মামলা হলো দুটি। বাঁকি পাঁচটি মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এ মামলায় স্বামীকে ফাঁসানোর অভিযোগ করেন তিনি।

অপর আসামি এজাবুল ইসলামের বড় ভাই আজিজার রহমান অভিযোগ করেন, গত সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে নির্যাতিত ওই মেয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ এজাবুলকে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর কালাই থানায় খোঁজ করেও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পর মেয়েটির বাবা বাড়িতে একা থাকতে না পেরে এজাবুলকে থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তার কথা মত এজাবুল ওই বাড়িতে থাকা অবস্থায় সোমবার রাত ১২টার দিকে পুলিশ তাকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার জানতে পারি তাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে।’ তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মামলার বাদী মেয়েটির চাচা জানান,সোমবার রাতে এজাবুলকে নির্যাতিত মেয়েটির বাড়ি থেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে যায়। তার ভাই (নির্যাতিত মেয়েটির বাবা) বাড়িতে একা থাকতে না পেরে এজাবুলকে ডেকে নিয়ে যান। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমরা কারও নাম দিয়ে মামলা করিনি। এ ব্যাপারে মেয়ে যা বলবে তাই হবে। এখন পুলিশ যদি কাউকে গ্রেফতার করে আমাদের সেখানে কী করার আছে। ওই ঘটনার পর থেকে তো আমাদের পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।’     

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান চৌধূরী জানান, ওই দুজন আসামিকে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার রাতে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনদিনের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার  (২৩ ডিসেম্বর) রাত ২টার দিকে বাড়ির প্রাচীর টপকে ঘরে ঢুকে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার মাথার বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাত ৪টার দিকে  অজ্ঞান অবস্থায় তাকে  উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া ও পরে ঢাকার নিউরো সার্জারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি।

আরও পড়ুন:
‘আল্লাহ যে কী ঘুম দিছে সেই রাতে!’

/বিটি/