গত ২৭ ডিসেম্বর নগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফাকে সভাপতি পদ থেকে বাদ দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুকে। নগর কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হয়নি। কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এই পদে আছেন। জেলায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে।
কমিটি ঘোষণার পরদিন ২৮ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দলের মহানগর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর ১ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদাকে আহ্বায়ক ও বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টুকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারা নতুন কমিটি বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব সাইদুর রহমান পিন্টু। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শুধুমাত্র বিএনপির সিনিয়ির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদের অনুগত ও পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে তাদের আনা হয়েছে। বিগত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তাদের মাঠে থাকার একটি প্রমাণও নেই। এ নিয়ে তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান মহানগর ও জেলা কমিটির অধিকাংশ নেতা বিতর্কিত, কর্মীবিচ্ছিন্ন ও বিএনপির রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ। এই কমিটি ঘোষণার ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন, স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরূপ বিতর্কিত সমন্বয়হীন কমিটি দলের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে বিভেদ, অস্থিরতা, অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে। বৃহত্তম দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করে এবং মহানগর ও জেলা বিএনপিকে বাঁচানোর জন্য তৃণমূল ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, এই বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির ব্যানারে পালিত হবে। দ্রুত দাবি মানা না হলে গণপদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
রাজশাহী বিএনপি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল হুদার সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান শরিফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মনির হোসেন, নুরুজ্জামান টিটো, বেলাল আহম্মেদ, মুসলিমা বেগম বেলী প্রমুখ।
/বিটি/
আরও পড়ুন:
শামীম ওসমান-নূর হোসেনের কে এই গৌরদা?