রুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত

রুয়েটরাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ন্যূনতম ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত দুই শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও এর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দ্বিতীর্য় বর্ষ বিজোড় (২০১৫ সিরিজ) ও দ্বিতীয় বর্ষ জোড় (২০১৪ সিরিজ) সেমিস্টার সমূহের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একাডেমিক কাউন্সিলের ৮৬তম জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে এই অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।’

তবে এই সময়ে অন্যান্য বর্ষের সব সিরিজের যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, বুধবার সরস্বতী রুয়েটে সরকারি ছুটি ও পরদিন বৃহস্পতিবার রুয়েটের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এর পর শনিবার শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলনে আসবেন কি না তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘এ বিষয়ে আজ রাত ৯টায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ক্লাস বর্জন করে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। টানা তিনদিন আন্দোলনের পর সোমবার শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। এই আলোচনায় সমঝোতা না আসায় আজ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রাখে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি, পরে বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন এবং সাড়ে ১২টায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৩৩ ক্রেডিট’ নিয়ম চালু নেই। ২০১৩ সালের আগে রুয়েটেও এই নিয়ম ছিল না। ব্যাকলগ বা শর্ট সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়ে পাস করা যেত। কিন্তু বর্তমানে মানোন্নয়নের কোনও সুযোগ রাখা হয়নি।

প্রসঙ্গত, এর আগে একই দাবিতে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করেন রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সকল ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরেই ওই আন্দোলন থেমে যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, রুয়েটে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায় তাকে সেই বর্ষেই থেকে যেতে হয়। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বা অনুপুস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে পারতো। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম তুলে নেয় রুয়েট প্রশাসন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ৩৩ ক্রেডিটের এ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখিন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতায়ও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে।

/এফএস/

আরও পড়ুন- 


বিশেষ আনসার: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশায় ১৭ বছর পার