বগুড়ায় ভাইবোনকে হত্যার দায়ে ২ জনের ফাঁসি

আইন-আদালতবগুড়ার শিবগঞ্জে দুই শিশু ভাইবোনকে হত্যার দায়ে দুইজনের  মৃত্যুদণ্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তকে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ  মো. গোলাম ফারুক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শিবগঞ্জের আটমুল মোঘলপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে মাহফুজুল হক ও তার বন্ধু একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আকতার হোসেন আতাউর।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আবুল কালাম বাদশা একই এলাকার আলতাফ আলী প্রামানিকের ছেলে। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই পলাতক। মামলায় মফিজ উদ্দিন নামে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়,২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিবগঞ্জের আটমুল মোঘলপাড়া গ্রামের মুসা প্রামানিকের মেয়ে রহিমা খাতুন (৮) ও ছেলে আবদুর রহিমকে (৬) অপহরণের পরিকল্পনা করে আসামিরা।  সে অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর দুপুরে মাহফুজুল ওই দুই শিশুকে মাছ দেওয়ার প্রলোভনে আটমুল মাঠের রজনীকুড়ি ডোবায় ডেকে নিয়ে যায়। শিশুরা সেখানে গেলে আসামিরা তাদের অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুরা চিৎকার দিলে আসামিরা তাদের গলাটিপে হত্যা করে। এরপর লাশ একটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

শিশু রহিমা ও রহিম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি করে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় ডিজি করা হয়। ঘটনার সাত দিন পর ৯ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে আটমুল মাঠে ধানক্ষেতে দুই ভাইবোনের পঁচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে তাদের বাবা মুসা প্রামানিক শিবগঞ্জ থানায় মাহফুজুল, তার বাবা মফিজ উদ্দিন, বন্ধু আতাউর ও বাদশার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ পর্যায়ক্রম আসামিদের গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে বাদশা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই  হারুন অর রশিদ ২০০৫ সালের ২৮ মার্চ আদালতে চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। জামিনে ছাড়া পেয়ে সব আসামি আত্মগোপন করে।

সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বুধবার দুপুরে আদালত মাহফুজুল ও আতাউরকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাদশাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সরকারপক্ষে অতিরিক্ত পিপি নুরুস সালাম সাগর এবং আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট বিয়ন কুমার দাস বিশু ও অ্যাডভোকেট এএনএম জাহাঙ্গীর মামলা পরিচালনা করেন।

/বিটি/