দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫০০ শিশু

রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছেহঠাৎ করেই জয়পুরহাটে রোটা ভাইরাসের (ডায়রিয়া) প্রকোপ বেড়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় পাঁচশ শিশুকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ২০-২৫ জন আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছেন তাদের বাবা-মা। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব শিশুদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে জায়গা দিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ জন শিশু ভর্তি আছে। বৃহস্পতিবার ৪০ জন ভর্তি থাকলেও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ায় ২৩ জনকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫’শ রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। যাদের প্রায় সবাই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তাদের বারান্দায় বেড দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরের বুলুপাড়া মহল্লার দেড় বছরের শিশু কন্যা মাওয়া’র মা ফারজানা আক্তার জানান, পায়খানার পাশাপাশি বমি শুরু হলে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। স্যালাইন দিয়ে রাখা হলেও কিছুতেই পায়খানা কমছে না।

একই অবস্থার কথা জানান নওগাঁর ধামুরহাটের মরল গ্রাম থেকে আসা দুই বছরের শিশু মোহনার নানি মাজেদা বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। চিকিৎসা চললেও কমছে না পেটের ব্যাথা। শুধু মাওয়া বা মোহনা নয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব শিশুর অভিভাবকরাই জানান, হঠাৎ করেই তাদের শিশুরা পায়খানার পাশাপাশি অনর্গল বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত স্টাফ নার্স বিউটি বেগম জানান, প্রতিদিন হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ২-৩ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান জানান, গত দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৫’শ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার তারতম্যের পাশাপাশি অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

 /বিএল/