রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট: চিকিৎসকদের ওপর বাড়ছে চাপ

Rajshahi RMCH Intern Doctors Strike Photo 05.03 (4)

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি রবিবারও অব্যাহত রয়েছে। বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবাদে এই ধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটের কারণে রোগী সেবায় তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. সারওয়ার জাহান বলেন, এর আগেও ধর্মঘট হয়েছে। এখনও চলছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে রোগীদের চিকিৎসার নিয়মিত কার্যক্রম কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। তাদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীদের জন্য সিএসহ (ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট)রেজিস্ট্রারদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়াও অনেক ডাক্তার মেডিক্যালে গবেষণার কাজে নিয়োজিত থাকেন। তারা সাধারণত রোগী দেখেন না। ধর্মঘটের কারণে তাদেরকেও ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ডাক্তারদের ওপর চাপ পড়ছে।

 

তিনি আরও জানান, এই ধর্মঘটের ফলে চিকিৎসা সেবায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে। সেজন্য এখন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে মিটিংয়ে বসেছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ড হৃদরোগ বিভাগের বারান্দায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিটিআই এলাকার সুলেখা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বৃহস্পতিবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আজ (রবিবার) আমরা চলে যাব। চাঁপাইয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবো। এখানে আমার ছেলের তেমন চিকিৎসা হচ্ছে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ওয়ার্ডের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এই ধর্মঘটের কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। কারণ যেখানে ১০ জন চিকিৎসক দরকার। সেখানে মাত্র দুজন চিকিৎসক কাজ করছেন। তবে চিকিৎসার ক্রুটি হচ্ছে না বলে তারা জানান।

হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় অসুস্থ স্বামী শাহজাহানকে নিয়ে আছেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ছোট ডাক্তার, বড় ডাক্তার আমরা চিনি না। হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরবরাহ করলে আমাদের সুবিধা হতো। সকালে একবার ডাক্তার দেখে গেছেন। তেমন সমস্যা হলে আমরা নার্সদের জানাই। তারাই আমাদের পরামর্শ দেন।

রবিবার সাড়ে ১১টার সময় হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউরো সার্জারি বিভাগের ব্রাদার শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন নার্স জানান, ইন্টার্নরা নেই। তবে সিএ আব্দুর রহিম আছেন। তিনি কি এখন আছেন। তারা বলেন, তিনি ওটি (অপরারেশন থিয়েটার) তে আছেন। তার পরামর্শ নিয়ে আমরা রোগীদের চিকিৎসা করাচ্ছি।   

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন : কুসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল