প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ে রেশম বোর্ড চালুর বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি টিম সোমবার (৩ এপ্রিল) কারখানাটি পরিদর্শন করেন। ১৫ দিনের মধ্যে টিমটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলে যেকোনও সময় কারখানাটি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা রেশন কারখানাটি পরিদর্শন করেছি। মন্ত্রণালয় ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আশাকরি খুব শীঘ্রই কারখানাটি চালু হবে।’
প্রসঙ্গত, ১৫ বছর আগে দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের চাষিরা তুঁতগাছ লাগাতেন। তাদের প্রায় অর্ধশত বাগান ছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও প্রায় ১৫-২০টির মতো বাগান টিকে আছে যেসব বাগান থেকে পলু পালনের মাধ্যমে সুতা উৎপাদন করেন রেশম কর্মীরা। এক সময় ঠাকুরগাঁও ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানায় উৎপাদিত হতো মসৃণ সিল্ক কাপড়। অথচ নীতি-নির্ধারকদের টানাপোড়েন ও কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর উদাসীনতায় দিনে দিনে এই কারখানাটিকে লোকসানে ফেলা হয়। বিএমআরই করা হবে এমন কথা বলে হঠাৎ করে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ কারখানা চালু করার কথা বলে একাধিকবার রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ঘোষণা পেলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
১৯৭৭-৭৮ সালে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস ঠাকুরগাঁওয়ে এই রেশম কারখানাটি স্থাপন করে। ১৯৯৫ সালে রেশম কারখানাটি আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। আধুনিকীকরণে মোট ব্যয় হয় এক কোটি ৭৯ লাখ টাকা। লোকসানের অজুহাতে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চাষি ও স্থানীয় জনগণের মতে, মিলটি ঐতিহ্যগত কারণে চালু করা দরকার। চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তাছাড়া এখানকার কাপড় অত্যন্ত মূল্যবান। কাঁচামালের কোনও অভাব হবে না।
রেশম চাষি আলাউল জানান, এখনও রেশম চাষের যাবতীয় দক্ষতা হাতে নিয়ে তারা এত বছর ধরে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করেছেন কারখানাটি নতুন করে চালুর জন্য।
আরেক চাষি শাহ আলম ও তার স্ত্রী জমিলা জানান, এখন তাদের অন্য ফসল ফলিয়ে দরিদ্র জীবনযাপন করতে হয়। কারখানাটি চালু হলে তারা আবারও একটু স্বচ্ছলতার মুখ দেখবেন।
/বিএল/