কোর্ট ইন্সপেক্টর আবুল হাশেম জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসমাউল হোসেনের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তবে কবে লাশ উত্তোলন করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে দুইটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হোসেন রাউধার লাশ উত্তোলন করে ফের ময়না তদন্তের অনুমতি চেয়ে রবিবার আদালতে আবেদন করেছিলেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখনও আদালতের আদেশনামা পাইনি। তবে আদালতের আদেশনামা অনুযায়ী পরবর্তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাউধার মৃত্যু তদন্ত নিয়ে সোমবার বিভিন্ন জায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার নথিপত্র পর্যলোচনা করা হচ্ছে।’
রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে রাউধার ময়নাতদন্তকে চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার দাবি, তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। এর আগে গত ১০ এপ্রিল রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠী সিরাতকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ। মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে রাউধার মৃত্যুর ১২ দিন পর রাজশাহীর আদালতে এই মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাউধা আথিফের মৃত্যুর পর দুটি মামলা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু (ইউডি) ও অপরটি হত্যা মামলা। বর্তমানে দুটি মামলা এখন থেকে তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা ঝুলন্ত রাউধার মরদেহ নামিয়ে ফেলে। গত ৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। ৩১ মার্চ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ১৫ এপ্রিল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
এর আগে রাউধার মৃত্যুর ১২ দিন পর গত ১০ এপ্রিল তার সহপাঠী সিরাতকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ। রাজশাহীর আদালতে দায়ের করা ওই মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী হত্যা মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা আথিফ রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণেও তিনি মডেল হয়েছিলেন। ওই সংখ্যার প্রচ্ছদে আরও পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।
/বিএল/এফএস/
এ সংক্রান্ত আগের খবর:
পুনঃ ময়নাতদন্তের জন্য রাউধার লাশ উত্তোলনের আবেদন সিআইডির