রাজশাহীতে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

গ্রেফতারের প্রতীকী ছবিরাজশাহীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ মে) রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দিনের মেয়ে সারোয়ার জাহান রিতু (২২), রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার আবুল বাসার জুয়েলের স্ত্রী পপি বেগম (৩৫) ও শ্রীরামপুর এলাকার রফিকুলের ছেলে শাহীন (২৮)।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতেখায়ের আলম বলেন, সারোয়ার জাহান রিতু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শামিরুল ইসলাম (২৬) নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর রবিবার (৭ মে) বেলা ১২টার দিকে রিতু মোবাইল ফোনে শামিরুলকে নগরীর শালবাগান পেট্রোল পাম্পের সামনে দেখা করতে বলে। শামিরুল ওই স্থানে রিতুর সঙ্গে দেখা করতে যায়। এসময় রিতু তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য শামিরুলকে অনুরোধ করে শাহমখদুম থানার মধ্য নওদাপাড়া এলাকার পপি বেগমের কাছে নিয়ে যান। এরপর সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রিতু, পপি ও শাহীনসহ আরও দুইজন শামিরুলকে একটি কক্ষে আটক করে রাখে। সেই সঙ্গে শামিরুলের পকেটে থাকা ১১ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।
এরপর তারা শামিরুলের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার আত্মীয়দের ফোন দিয়ে একটি বিকাশ নম্বরে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে পাঠাতে বলে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শামিরুলের বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয় ওই চক্রের সদস্যরা।

বিষয়টি নিয়ে শামিরুলের আত্মীয়রা রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় অভিযোগ করে। এরপর ডিবি পুলিশের একটি টিম তাদের সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে ওই চক্রের সদস্যরা শামিরুলকে রবিবার (৭ মে) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নওদাপাড়া এলাকার ইক্ষু (আখ) সেন্টারের কাছাকাছি রাস্তায় রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শামিরুলের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ডিবি পুলিশ রবিবার (৭ মে) রাত ১০ টার দিকে নওদাপাড়া এলাকা থেকে আসামি রিতুকে পরে রাত ১টার দিকে কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে বাকি দুইজনকে আটক করে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নগরীর শাহমখদুম থানায় একটি নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখায়ের আলম বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোনালাপের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে এনে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে বড় অংকের টাকা আদায় করে থাকে।

/এআর/