মিন্টুর জামিন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী

শিমুলের স্ত্রীসাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হাবিবুল হক মিন্টুর জামিন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন।

মঙ্গলবার বিকালে (৬ জুন) বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মেয়র হালিমুল হক মিরুকে হাসপাতাল থেকে জেলে প্রেরণ এবং মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরের দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে নুরুন্নাহার খাতুন তার মরহুম স্বামী শিমুলকে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক উল্লেখ করে বলেন, তাদের নিজের জায়গা-জমি নেই। শিমুল সাহসিকতার সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখতেন। তাই শাহজাদপুর পৌর মেয়র মিরু তাকে (শিমুল) শত্রু মনে করতেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে উদ্ধার করার ঘটনায় শাহজাদপুর পৌর শহরের মনিরামপুরে মেয়র মিরু ও তার ভাইদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনি মেয়র মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ অজ্ঞাত-অজ্ঞাত ৪০/৪২ জনের নামে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। অপরদিকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের চাচা এরশাদ আলী মেয়রের ভাই মিন্টু ও পিন্টুসহ ২০/২৫ জনের নামে আরেকটি মামলা করেন। শিমুল হত্যাকাণ্ডের ৩৫ দিন পর মিন্টুর অবৈধ পাইপগান উদ্ধার হলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে তৃতীয় মামলা করে।

গত রবিবার মিন্টুর জামিন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিন্টু জেলগেটে তার সমর্থকদের বলেছেন, ‘চিন্তা করিস না। জামিনে ছাড়া পেয়েছি। ভয় নেই সবাই জামিন পাবে।’

শিমুলের স্ত্রী বলেন, জামিন পাওয়া আইনগত অধিকার। তারপরও জেল থেকে ছাড়া পেয়েই যিনি এমন কথা বলতে পারেন তার জামিন কীভাবে বহাল থাকে?

নুরুন্নাহার খাতুন আসামি মিন্টুকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী উল্লেখ করে বলেন, ‘তার জামিন পাওয়ার ঘটনা আমাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ মিরুর পরিবার সিরাজগঞ্জ থেকে পাবনা হয়ে বগুড়া পর্যন্ত নানাভাবে সংযুক্ত। যেহেতু আমি চাকরির কারণে আমার দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বগুড়া শহরে অবস্থান করছি, সে কারণে মিন্টু জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে নিজের ও বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং রীতিমত অসহায় বোধ করছি।’

স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে তিনি বলেন, চার্জশিট হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় চলে গেলেও সেটি আদালতে গৃহীত হয়নি। গৃহীত হলেই মিরু আর মেয়র থাকতে পারবেন না। কিন্তু অসুস্থতার অজুহাতে মিরুকে ঢাকার হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আর সেখানে বসে তিনি কলকাঠি নাড়াচ্ছেন।’

নুরুন্নাহার অবিলম্বে মিরুকে জেলহাজতে প্রেরণ, তার ভাই মিন্টুর জামিন বাতিল ও হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি শিমুল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জ ও বগুড়াসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের প্রশংসা করেন।

/বিএল/