আশ্রয়কেন্দ্র ভাড়া দেওয়া এনজিওকে, বিপাকে দুর্গতরা

ধুনটের সেই আশ্রয়কেন্দ্রটিবগুড়ার ধুনটের বড়বিলা এলাকায় পৌনে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি একটি এনজিওকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে দুর্যোগের সময় এটি ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গতরা।

২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের বড়বিলা এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে। এটি নির্মাণের পর মাত্র দুবার বন্যা দুর্গতরা আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ থাকে। বন্যার সময়ও খুলে দেওয়া হয় না।

অভিযোগ আছে, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল সেখানে তাদের স্কুল পরিচালনা করে আসছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানান,৪ বছর আগে গোসাইবাড়ি ইউনিনের তৎকালীন চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান উজ্জ্বল সরকারি ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি প্রতিশ্রুতি কিন্ডার গার্টেন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৮ বছরের জন্য ভাড়া দেন। ভাড়া ধরা হয় ৫০ হাজার টাকা। যদিও পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম,মতিয়র রহমান ও শফিকুল ইসলাম আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের স্কুল ব্যবসা করে আসছেন।

সম্প্রতি যমুনা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে ভাণ্ডারবাড়ী ও গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। অনেকে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকে বাধ্য হয়েই পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও সেখানে যেতে না বিপাকে পড়েছেন দুর্গতরা।

গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান মুকুল বলেন, এ ব্যাপারে মাসিক সমন্বয় সভায় অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তরপরও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুজ্জামান উজ্বল জানান,দীর্ঘদিন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। তাই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি ভাড়া দেওয়া হয়। তবে বন্যার সময় সেটা খালি করে দেওয়ার কথা ছিল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি ইউনিয়নের পরিষদের তত্ত্বাধায়নে রয়েছে। তৎকালীণ চেয়ারম্যান আশ্রয়কেন্দ্রে একটি স্কুল দেওয়ার বিষয়ে আবেদন করলে সেটা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কিভাবে তারা আশ্রয় কেন্দ্রটি দখল করে আছে সে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

/এসটি/