ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর ওপরিভাগে এবড়ো-খেবড়ো ও পুরাতন বিটুমিন-পাথরের আস্তর কাটা ও অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম থেকে কাটার মেশিন এনেছে সওজ। এছাড়া স্থানীয়ভাবে কর্মরত শ্রমিকরা গাঁতি দিয়েও আস্তর তুলে ফেলছে। ঢাকার রফিকুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার এ কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একই মহাসড়কে নলকা সেতুর প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যারিস্টোক্রেট হোটেলের সামনে একটি সরু সেতুর দুই পাশে ৪ ফুট প্রশস্ত ফুট-ওয়াক সম্প্রসারণের কাজও করছে। এ দুটি সংস্কার ও মেরামত কাজে সওজ কোটি টাকা ব্যয় করছে। নলকা সেতুর ওপরিভাগে খানাখন্দ ও ভঙ্গুর জয়েন্ট এক্সপানশন মেরামত না করায় গত প্রায় দুই মাস ধরে এ মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি, যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ ছিল। যানজট কিছুটা কমলেও এখনও ধীরগতি রয়েছে।
অপরদিকে, গত কয়েকদিন দিনের অবিরাম বর্ষণে হাটিকুমরুল মোড় গোলচত্বরে সৃষ্ট খানাখন্দ মেরামতেও সওজের কাজ চলছে। হাটিকুমরুল মোড় সংলগ্ন পূর্বদিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় আড়াই’শ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ২১ মিটার প্রস্থে ইটের গাঁথুনি দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমলেও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে না, এমন পরিকল্পনায় সওজ এ কাজটি করছে বলে জানা গেছে। আগস্ট মাসের ১০/১২ তারিখের মধ্যে এ কাজ শেষ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-বগুড়া অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী কোরবানির পশুবাহী শত শত ট্রাক এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করলে যাত্রী দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা দ্বিগুন হতে পারে-এ আশঙ্কায় হাইওয়ে পুলিশ দফতর থেকে সওজকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নলকা সেতু ও হাটিকুমরুল মোড়ের খানাখন্দ মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া হাটিকুমরুল মোড়ের অদূরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে একটি ছোট সেতুর দুইপাশে ফুট-ওয়াক সম্প্রসারণের কাজ আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে শেষ হবে বলেও আশা করছি।’
হাটিকমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘বগুড়া অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার দুপুরে সরেজমিনে এসে এসব কাজ পরিদর্শন করে গেছেন। আগামী মাসের ১০/১২ তারিখের মধ্যে এ কাজ শেষ করা না হলে উত্তরাঞ্চল-ঢাকাগামী কোরবানির পশুবাহী শত শত ট্রাক মহাসড়ক দিয়ে চলাচল শুরু হলে যাত্রী দুর্ভোগ-বিরম্বনা আরও বাড়বে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন- কোরবানি ঈদেও বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে দুর্ভোগের আশঙ্কা