রাজশাহী সিটি করপোরেশন’র (রাসিক) দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। শনিবার বিকেলে নগর ভবনের সিটি হল সভা কক্ষে রাসিকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,‘কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি নিয়ে নগর ভবনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতেই আমি এ দাবি মেনে নিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আবার গতি ফিরে আসবে।’ সংবাদ সম্মেলনের সময় পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র বুলবুল জানিয়েছেন, কর্মচারীদের বেতন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে চিকিৎসা বাবদ প্রতিদিন ১০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের অন্য দাবিগুলোরও প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে সিটি করপোরেশনের ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা খরচ হতো। এখন থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়। প্রতিমাসে বাড়তি ব্যায় হবে ৫৫ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবারের (২৭ জুলাই) মারামারির ঘটনায় অস্থায়ী কর্মচারীরা দুঃখ প্রকাশ করায় তাদের দাবি মানা হচ্ছে। তবে বিশৃঙ্ক্ষলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কর্মচারীদের শোকজ বা চাকরিচ্যুত না করা এবং চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির ব্যাপারে সিটি মেয়র বলেন, কর্মচারীদের ১১ দফা দাবির সব মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন চলে নির্বাচিত পরিষদ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিয়ে। তাই অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো এখানেও সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই কর্মচারীদের কাজ করতে হবে।
১১ দফা দাবি নিয়ে রাসিকের অস্থায়ী কর্মচারীরা গত ১২ জুন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনের পর গত ১৯ জুন তারা নগর ভবনে তালা দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করে। ৯ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় নগর ভবনের প্রধান ফটক, গ্যারেজ ও রাসিক নিয়ন্ত্রিত শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায়। এরপর ১২ জুলাই এ আন্দোলন স্থগিত করা হয়। ১২ জুলাই কর্মচারীরা নিজেদের দাবি আদায়ে মেয়র বুলবুলকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়। ওই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলেও ভেতরে ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) এ বিষয়টি নিয়ে মেয়র বুলবুল নগর ভবনে স্থায়ী কর্মচারী ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় সভায় মেয়রের উপস্থিতে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন নারী কাউন্সিলরসহ ৫ জন আহত হন।
কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারিদের পোষ্যদের চাকরি দেওয়া, শোকজ বা চাকরিচ্যুত না করা, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের চাকরিতে নিয়োগ এবং মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: ‘সীতাকুণ্ডের ঘটনায় আমাদের শিক্ষা হয়েছে’