পুলিশ জানায়, ধর্ষণ ও নির্যাতনের পৃথক মামলায় ১০ জন আসামি। এছাড়া কয়েকজন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত মিলে মোট ১১ জন গ্রেফতার হয়েছে। এরা হলেন এজাহারভুক্ত তুফান সরকার, আতিক, দিপু, রূপম, পৌর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, বোন আশা খাতুন, তাদের মা রুমি খাতুন, গাড়ি চালক জিতু ও মুন্না এবং অজ্ঞাত আসামি রুমকির বাবা জামিলুর রহমান রুনু ও নাপিত জীবন রবিদাস। এদের মধ্যে আতিক ও জীবন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত বুধবার আদালত দ্বিতীয় দফায় তুফান সরকার ও মুন্নাকে দুদিন করে এবং আশা ও রুমিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রুমকির ৪ দিনের রিমান্ডের শেষ দিন চলছে। আসামি জীবন, দিপু, রূপম, জিতু ও জামিলুর রহমান রুনুকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আতিক আগে থেকেই জেলে আছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, রিমান্ডে কেউ মুখ খোলেনি। বৃহস্পতিবার বিকালে আশা ও রুমিকে আদালতে হাজির করে তৃতীয় দফায় ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। বিচারক রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলেছেন। এ সাতদিনের মধ্যে ইচ্ছামত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। পরে তাদের দু’জনকে জেলে পাঠানো হয়। তুফান সরকার ও মুন্নার শেষদিনের রিমান্ড চলছে।
প্রসঙ্গত, বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা তুফান সরকারের বিরুদ্ধে। এদিকে, ঘটনা জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা স্বামীকে দায়ী না করে ঘটনার জন্য কিশোরীটিকেই দায়ী করে। এরপর আশা তার বোন সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মার্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে ২৮ জুলাই ক্যাডার দিয়ে নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ও তার মাকে তাদের বাদুড়তলার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সেই রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী। এ ঘটনার পর ৩০ জুলাই তুফানকে শ্রমিকলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
/বিএল/