বড়ভৈরব গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে এই শিক্ষক ওই গ্রামের তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধূ রুমা খাতুনকে জোর করে হিল্লা বিয়ে দেন। প্রায় ৮ মাস আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই গ্রামের এরশাদ আলী তার স্ত্রী রুমা খাতুকে তালাক দেন। তাদের একটি ছেলে রয়েছে। এই ছেলের জন্য এরশাদ ও রুমা আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। গত সপ্তাহে তারা সিরাজগঞ্জ আদালতে নতুন করে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি ভৈরব গ্রামের মুসল্লিরা। হাজী শাহ আলম গ্রামে ফতোয়া দেন রুমাকে হিল্লা বিয়ে দিয়ে পরে আবার তার আগের স্বামীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হবে। তিনি গ্রামের বিরু প্রামানিক, মজিবর প্রামানিক, নুর ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও আব্দুর রহমানের সহযোগিতায় রুমাকে বুধবার রাতে এরশাদের ছোট ভাই ইউসুফ আলীর সঙ্গে হিল্লা বিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
গ্রামের ইউপি (দূর্গানগর) সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেশের আইন অমান্য করে কিছু ফতোয়াবাজ এই হিল্লা বিয়ে দিয়েছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী রুমাকে হিল্লা বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩ মাস ১৩ দিন পরে রুমার আগের স্বামীর সঙ্গে বিয়ে পড়ানো হবে।’ বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূ রুমা খাতুনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, গ্রামের সামাজিক চাপের মুখে তিনি হিল্লা বিয়েতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে হিল্লা বিয়ের কোনও অস্তিত্ব নেই বলে জানান।
উল্লাপাড়ার থানার ওসি কউশিক আহমেদ জানান, দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে হিল্লা বিয়ে পড়ানোর অপরাধে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক হাজী শাহ আলমকে আটক করা হয়েছে। গৃহবধূ রুমা খাতুন অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এফএস/
আরও পড়ুন- বাংলা ট্রিবিউনকে এরশাদ: কোনও জোটে যাওয়ার ১ পার্সেন্ট সম্ভাবনাও নেই