এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে নওগাঁয় দুই যুবলীগ নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সংগঠনে স্বপদেই বহাল রয়েছেন তারা। ওই দুই নেতা হলো ইউনিয়ন যুবলীগের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মহির উদ্দিন এবং ৬নং ওয়ার্ডের যুবলীগ সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান।
নওগাঁ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘মহিরকে বহিষ্কারের ক্ষমতা ইউনিয়ন কমিটির নেই। তাকে উপজেলা কমিটি বহিষ্কার করতে পারে। আনিছকে এরই মধ্যে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হবে।’
তাড়াশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলে আশিক জানান জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুই যুবলীগ নেতাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরীকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর রহমান এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েটির দেওয়া তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং প্রশ্নবিদ্ধ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।’ গ্রেফতার হওয়া ২ যুবলীগ নেতা জিজ্ঞাসাবাদে কোনও তথ্য দিয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানাতেও তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাড়াশ থানার উপ-পরিদর্শক সাচ্চু বিশ্বাস জানান, পুলিশের কাছে মায়ের দেওয়া তথ্য মতে ধর্ষিতার নিখোঁজ হওয়া ফুফাতো ভাই বুধবার বাড়ি ফিরেছে। মেয়েটির বোন বা দুলাভাইয়ের কাউকেও এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে সে তথ্য গোপন করছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটির বিদ্যাধর এলাকায় ধর্ষণের শিকার হওয়া নাটোরের গুরুদাসপুরের রাণীগ্রামের ওই কিশোরীর (১৬) ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ৩ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গত বুধবার বিকালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করেন।
হাসপাতালের গাইনি ইনচার্জ ডা. আঞ্জুমান আরা বকুল বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শেষে পুলিশ ভিকটিমকে নিয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে তাড়াশের মহিষলুটি-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের পাশে বিদ্যাধর এলাকার ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরীকে। এ ঘটনার পর ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে পরদিন সকালে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে।