খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। প্রায় ১০ দিন ধরে তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নে ১০টি, পাকুল্যা ইউনিয়নে ৭টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৫টি, জোড়গাছা ইউনিয়নে ৩টি এবং পৌরসভায় ৩টি সড়ক বন্যার পানির নিচে রয়েছে। এই ২৮ সড়কের মধ্যে পাকা ৮টি ও কাঁচা রাস্তা ২০টি। বর্তমানে ওইসব সড়ক দিয়ে হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছে না। লোকজনকে নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নৌকা ভাড়ার বাড়তি অর্থ গুণতে হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীদেরকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অপরদিকে, পৌর এলাকার সোনাতলা থেকে সুজাইতপুর, কামারপাড়া সড়কের একটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে ৫/৬টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার জনগণকে ৭/৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের সব রাস্তা বন্যার পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন পথচারীদের নানা দুর্ভোগের সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল হক বলেন, ‘১৯৮৮ সালের পর এবার বড় বন্যা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বেশি। এছাড়াও পাকুল্যা ইউনিয়নের উত্তর করমজা-মিলনেরপাড়া, পদ্মপাড়া-মিলনেরপাড়া, পদ্মপাড়া-নিশ্চিন্তপুর, উত্তর করমজা-সাতবেকী পাকা সড়কের ওপর পানি থাকায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবমিলিয়ে ছোটবড় প্রায় ২০টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বন্যা পরবর্তীতে ভেঙে যাওয়া রাস্তা ও সেতু সংস্কারে বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে সোনাতলার সব রাস্তাঘাট মেরামত, সংস্কার ও পাকা করা হবে।
আরও পড়ুন- ত্রাণে কাটছে না খাদ্য সংকট