জানা গেছে, রাজশাহীর বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রাজশাহী নগরীর সিটি হাট, গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী, কাঁকনহাট, পবা উপজেলার নওহাটা, কাটাখালি, বাগমারার উপজেলার মচমইল, তাহেরপুর, দুর্গাপুর উপজেলার সদর, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট, পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরহাট, বাঘা উপজেলার রুস্তমপুর ও চন্ডিপুরে এবার বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমন বেশি বলে জানা গেছে। তবে এই হাটগুলোতে দেশি জাতের পশুর পাশাপাশি ভারতীয় গরু-মহিষের আমদানি ছিল। আর পশুহাটে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ টহল দিচ্ছেন। হাটে জাল টাকা পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন। এছাড়াও হাটে আগত অসুস্থ পশু পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেনারি চিকিৎসা দলও আছে।
রাজশাহী নগরীর বহরামপুর এলকার ফল ব্যবসায়ী রতন আলী বলেন, পাঁচ ভাগে ৬১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে একটি দেশি মাঝারি সাইজের গরু কিনেছি। তবে ঈদের আগের দিন আমাদের কাছে গরু এনে দিবে। খামারে এতো দিন পালন হবে।
আরেক কোরবানির গরু ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, গরুর দাম তেমন বেশি মনে হচ্ছে না। তবে দেশি মাঝারি সাইজের গরু হাটে বেশি আছে। ৭০ হাজার টাকা দামে একটা দেশি ষাঁড় কিনেছি।
ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা ব্যাপারী আবদুর রহমান জানান, গরুর ব্যবসা অনেকটা ভাগ্যের ওপরেও নির্ভর করে। গত বছর ঈদুল আজহার আগে তিনি ৫০টি গরু কিনে ক্ষতির মুখ দেখেছিলেন। কারণ, সেইবার ভারত থেকে গরু আমদানি হয়ে ছিল। এবারও তিনি কিছু গরু কেনার চেষ্টার করছেন।
রাজশাহী নগরীর সিটি হাটের ইজারদার আতিকুর রহমান কালু জানান, গত বছর শেষের দিকে গরু-ছাগলের দাম কমে যাওয়ায় অনেকে ঈদের আগে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারেননি। তাই এবার বিক্রেতারা আগেভাগে কোরবানির পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই। ঈদের আগ পর্যন্ত সিটি হাটে প্রতিদিনই কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা এখনও কম।
হাটের দিন গড়ে ৩০-৪০ হাজার গরু আসছে এই হাটে। অন্যান্য দিনও আসছে ১৫-২০ হাজার করে পশু। এসব পশুর মধ্যে রাজশাহী এবং রাজশাহীর আশেপাশের জেলাগুলোর খামারে পালন করা গরু এবং মহিষই আসছে বেশি। হাটে আসা বড় সাইজের গরুর প্রায় ত্রিশ ভাগ অংশ আসছে ভারত থেকে। তবে এখন কোরবানির জন্য আর ভারতীয় গরু না আসলেও চলবে। দেশেই যে পরিমাণ গরু-মহিষ পালন হয়েছে-তাতে মনে হয় এবার ভারতীয় গরু-মহিষের ওপর ভরসা না করলেও চলবে।
বিজিবি’র রাজশাহী সেক্টর সূত্রে জানা গেছে, এবার জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৪ লাখ ৯০ হাজার ভারতীয় পশু রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে জুলাই মাসে ৮৯ হাজার পশু আমদানি হয়েছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মো. আকতার হোসেন বুলবুল বলেন, ‘রাজশাহী জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার। এর বিপরীতে এখানকার খামার ও কৃষকের কাছে কোরবানির পশু রয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার। যার মধ্যে গরু ৫৭ হাজার ৫১৩টি এবং ছাগল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০টি। এখানে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৯ হাজার বেশি কোরবানির পশু রয়েছে। গতবার রাজশাহীতে কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার। এর বিপরীতে পশু ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার। বাড়িতে বা খামারে পশু পালন লাভজনক হওয়ায় এদিকে ঝুঁকছেন এই এলাকার মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রাকে করে বেশিরভাগ পশু ঢাকাসহ দেশের অন্য স্থানে সরাসরি চলে যাচ্ছে। এটা স্থানীয় খামারি ও পশু বিক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুবিধা এনে দিয়েছে।’