দুটি মামলায় তুফান বাহিনীর ১২ জনের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট

 তুফান সরকার

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও মাসহ নির্যাতনের দুটি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১২ জনের বিরুদ্ধে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।

অভিযুক্তরা হলেন, বহিষ্কৃত শহর শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তার স্ত্রী আশা খাতুন, শ্যালিকা পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকি, শাশুড়ি রুমি খাতুন, শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু, তুফান বাহিনীর সদস্য আতিক, মুন্না, আলী আজম দিপু, রূপম, শিমুল, জিতু ও নাপিত জীবন রবিদাস।

তাদের মধ্যে তুফান বগুড়া জেলে মাদক সেবন করায় তাকে কাশিমপুর কারাগারের হাইসিকিউরিটি সেলে পাঠানো হয়েছে। শ্বশুর রুনু জামিনে আছেন। শিমুলকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। অন্য ৯ জন বগুড়া জেলে আছেন।  অন্যদিকে নাপিত জীবন ও রুনু এজাহারভুক্ত আসামি না।

আতিক, দিপু ও নাপিত জীবন আদালতে মা ও মেয়েকে ন্যাড়া এবং নির্যাতনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তুফান, আশা, রুমকি ও রুমাসহ অন্যদের কয়েকদফা রিমান্ডে নিয়েও স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারেননি। মামলায় ১৬ জন সাক্ষী রাখা হয়েছে। আলামত হিসেবে তুফানের প্রাইভেট কার, দুটি ক্ষুর, দুটি কাঁচি, ভিকটিমদের স্বাক্ষর নেওয়া কাউন্সিলর রুমকির পৌরসভার প্যাডের পাতা, নির্যাতনের এসএস পাইপ, মা ও মেয়ের কেটে ফেলা চুল। ভিকটিম ছাত্রীও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে ও তাকে নাবালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, চার্জশিট তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূজার ছুটির কারণে দেরি হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি মামলায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দুটি মামলায় তুফানসহ ১২ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পলাতক আসামি শিমুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার কথা বলে তুফান সরকার তার বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে গত ১৭ জুলাই দুপুরে ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি প্রকাশ করলে বাড়িতে বোমা মারার হুমকি দিয়ে ছাত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তুফানের স্ত্রী আশা ঘটনাটি জানার পর উল্টো ওই ছাত্রী ও তার মাকে গত ২৮ জুলাই তার বোন পৌর কাউন্সিলর রুমকির বাড়িতে ধরে আনে। পরে তাদের শ্লীলতাহানী, নির্যাতন এবং চুল কেটে দেওয়ার পর নাপিত ডেকে ন্যাড়া করে দেয়। তারা যাতে আদালতের আশ্রয় নিতে না পারে সে জন্য তাদের কাছ থেকে পৌরসভার প্যাডে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এছাড়া পুরো নির্যাতনের দৃশ্যটি ভিডিও করা হয়। যদিও পুলিশ সে ভিডিও আজ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।

তুফান বাহিনীর হুমকি সত্ত্বেও এক প্রতিবেশি মা ও মেয়েকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ছাত্রীর মা তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলা করেন। এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট হলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। ৩০ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে। আদালতের নির্দেশে ছাত্রী ও তার মা রাজশাহীর সেফহোম এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আছেন। আগামী ১০ অক্টোবর মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে।

এ ঘটনায় তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে ও তার ভাই মতিন সরকারকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি মতিন সরকার একটি হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকেও জেলে পাঠানো হয়েছে। দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মতিন সরকার ও তুফান সরকারের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছেন।

 আরও পড়তে পারেন: গাইবান্ধায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবারকে ঘর দিয়েছে এ্যামেক