পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু: লাশ পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ

পুলিশের মারপিটে নিহত ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানজয়পুরহাটের কালাইয়ের হারুঞ্জা গ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান (৩২) নিহতের ঘটনায় লাশ পুনঃময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ না থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে নারাজি দিলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ ইকবাল বাহার বুধবার ওই আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. উজ্জল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

নিহত ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের বড় ভাই জাহিদুল আলম বলেন,‘পুলিশ গত ৯ অক্টোবর ভোরে আসামি ধরতে গিয়ে সাইদুরের মাথায় ও ঘাড়ে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে ও লাথি মারে। এতে ঘটনাস্থলে সাইদুরের মৃত্যু হয়। তার ঘাড়ে ও দুই হাতে পুলিশের মারপিটের চিহ্ন সবাই দেখেছে। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দুই হাতে আঘাতের চিহ্নের কথা বলাও হলেও মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আর সেই সুযোগে পুলিশ অসত্য প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে শুরু থেকেই পুলিশ তাদের অসহযোগিতা করছে। এমনকি এই হত্যাকাণ্ডের মামলাও থানায় নেওয়া হয়নি। আদৌ তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার পাবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত। 

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. উজ্জল হোসেন জানান,পুলিশের দাখিল করা প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নিহতের বাবা ও মামলার বাদী কাজেম আলী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত শুনানির পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে যে কোনও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক নিয়ে বোর্ড গঠন করে পুনঃময়নাতদন্তের আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগের ময়নাতদন্তে চিকিৎসকদের কোনও গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন,‘আদালতের আদেশ পেয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর ভোরে পুলিশ কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের মামলার পলাতক আসামি শাপলাকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে যায়। এ সময় শাপলার স্ত্রী মাসুদা ও ভাই ফেরদৌস পুলিশের মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে শাপলার চাচা সাইদুর প্রতিবাদ করলে পুলিশ বাড়ির প্রধান ফটকে তার মাথা ও ঘাড়ে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে এবং তলপেটে লাথি মারে। গুরুতর আহত সাইদুরকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করলে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় কালাই থানা মামলা না নিলে সাইদুরের বাবা কাজেম আলী ১১ অক্টোবর এস আই  রফিক, এসআই  আসাদ,কনস্টেবল রাশেদুল ও ফারুকের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মামলাটি কালাই থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিলে মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও খবর:
পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ী নিহত, গুলিবিদ্ধ ৪: সাময়িক বরখাস্ত ৪ কনস্টেবল

পুলিশের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু: ময়নাতদন্তে মেলেনি কারণ