মামলার আসামিরা হলেন দৈনিক যুগান্তর ও স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকার রাবি প্রতিনিধি হাসান আদিব, এসএ টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি জিয়াউল গণি সেলিম ও এসএ টিভির ক্যামেরা পারসন সাঈদ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েটে ইয়াবা চক্রের বিষয়ে গত ৯ নভেম্বর এসএ টিভি এবং ১০ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় ও রবিউল আউয়াল মিল্টনের নাম উল্লেখ করে তাদের মর্যাদাহানি ঘটানো হয়েছে। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময় দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের যে সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে তা ‘গোপনীয়’ উল্লেখ থাকার পরও সেটি প্রকাশ করে তারা অন্যায় করেছেন। এছাড়া রাজশাহী মহানগর পুলিশও এ তালিকার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন। এতে পরিষ্কার হয় যে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার বিষয়ে হাসান আদিব বলেন, ‘সংবাদের মূল সূত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক অধিশাখার প্রতিবেদন। এছাড়া সংবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পাবার পরেই সংবাদ পাঠিয়েছি। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও শুধু দুটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধির নামে মামলা করা হয়েছে। সুতরাং এটি পূর্ব শত্রুতা ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা ছাড়া আর কিছু নয়।’
এসএ টিভির রাজশাহী প্রতিনিধি জিয়াউল গণি সেলিম বলেন, ‘হয়রানির উদ্দেশ্যে তারা এ মামলা করেছে। তাদের আইনগত অধিকার রয়েছে মামলা করার। আমরাও তাই আইনিভাবেই মোকাবিলা করবো।’
এদিকে সাংবাদিকের নামে হয়রানি ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাবি প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর এসএ টিভিতে ‘ইয়াবা চক্রে জড়িত রাবি ও রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী’ এবং ১০ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ‘রাবি ও রুয়েটে ইয়াবা ব্যবসায় ৪৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।