‘নির্বাচন এলে প্রার্থীরা সেতু করার কথা বলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কোনও খবর থাকে না। সেতুর আশায় বছরের পর বছর কাটে। কিন্তু সেতু হয় না।’ কথাগুলো বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের পোড়াপাইকর গ্রামের বদি-উজ-জামান মুকুলের। ওই এলাকার বাঙালি নদীর সলুরঘাটের ওপর সেতু নির্মিত না হওয়ায় আক্ষেপ করে তিনি কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে এখানে সেতু তৈরির ওয়াদা করেন জন-প্রতিনিধিরা। পরে আর কথা রাখেন না। জন-প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সেতু আর নির্মাণ করা হয় না।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সোনাতলা উপজেলার পোড়াপাইকর গ্রামের বাঙালি নদীর সলুরঘাট। এ ঘাট থেকে খেয়া নৌকায় নদী পার হন সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও গাবতলী উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, এপর্যন্ত ওই ঘাট থেকে নৌকায় নদী পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিগগিরই সেতু নির্মাণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা আরও জানান, শুকনো মৌসুমে খেয়া নৌকায় নদী পার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এছাড়া নদী পার হবার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছুতে পারে না তিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারও শিক্ষার্থী।
জোড়গাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মণ্ডল জানান, সলুর ঘাটে বাঙালি নদীতে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
সোনাতলা উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের নির্দেশনা মোতাবেক ওই খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে কাজ শুরু করা হবে।
এ ব্যাপারে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান জানান, গত ৮ বছরে তার নির্বাচনি এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য জায়গাগুলোতে চলতি মেয়াদেই সেতু নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এ নদীতে সেতু নির্মাণ একটি বড় প্রকল্প, যা বাস্তবায়ন হতে ২৭-২৮ কোটি টাকার প্রয়োজন। এই সরকারের শাসনামলেই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।