বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিভাগের অন্য শিক্ষকদের নামে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ১১ শিক্ষক। এর ভিত্তিতে ৩১ জুলাই তলবি সভা আহ্বান করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরপর ৩১ জুলাই শিক্ষক রুখসানা পারভীন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ওই ১১ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন। এতে যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
এরপর ২ আগস্ট বিভাগের সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই ১১ শিক্ষক। পরে ৪ আগস্ট তারা সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতি ও শিক্ষিকার করা যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে একাডেমিক সভায় সভাপতির একক সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাইরে ফাঁস করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, শিক্ষকদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অশোভন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।
এরপর ৬ আগস্ট ওই ১১ শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামানের পদত্যাগ, শিক্ষক রোখসানা পারভীনের শাস্তি ও একটি তদন্ত কমিটির দাবি করেন। পরে শিক্ষকদের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন সদস্যের ওই কমিটিতে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার ফারুককে প্রধান করা হয়। এরপর শিক্ষকরা উপাচার্যের অনুরোধে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও বিভাগীয় সভাপতিকে অসহযোগিতা এবং একাডেমিক ও প্লানিং কমিটির সভা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লাস শেষ হলেও পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন হলো আমাদের ক্লাস শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণের কাজ শুরু হয়নি। বিভাগের প্রায় সব বর্ষের পরীক্ষা অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে, কিন্তু পরীক্ষার বিষয়ে কোনও অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। ইতোমধ্যে তিন মাসের জটে পড়ে গেছি। জানি না কবে সমাধান হবে এই দ্বন্দ্বের।
জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসিমা জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সর্বশেষ অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ একাডেমিক কমিটির সভা আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু শিক্ষকদের সাড়া না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে বিষয়টি অবহিত করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত যে, শিক্ষকরা নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করেছেন। এই বিষয় এখন আর আমার হাতে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বা দিকনির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক এম আমিনুর রহমান, অধ্যাপক এস এম এক্রম উল্যাহ প্রমুখ।
জানতে চাইলে অধ্যাপক এম আমিনুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যেহেতু তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।’
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আখতার ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুর দিকে এই বিষয়ের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘এ বিষয়ে উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। তারপরে আর কিছু জানা নেই।’