বড়দিন উদযাপনে পাবনার খ্রিস্টান পল্লিতে উৎসবের আমেজ

 

xmas২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’। আর এই উৎসব উদযাপনে পাবনার ৩০টি গ্রামের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উপাসনালয়সহ বাড়ি-বাড়ি আলোকসজ্জা, গোশালা তৈরি, ক্রিসমাস ট্রি সাজানোসহ নানা প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

স্বজনদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন কর্মজীবী মানুষ। যীশু খ্রিস্টের জন্মতিথি সবার মাঝে হানাহানি আর বৈষম্য দূর করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এদিকে জেলায় বড়দিন উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তথ্য মতে, দুই হাজার বছর আগে বর্তমানের ফিলিস্তিনের বেথেলহেমের এক গোশালায় মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু খ্রিস্ট। সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর সারাবিশ্বের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে পালন করেন যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। তিনি মানুষকে দেখিয়েছিলেন মুক্তি ও কল্যাণের পথ। সেই যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি ‘বড়দিন’ উদযাপনে পাবনা জেলার ৩০টি গ্রামের খ্রিস্টান পল্লি এখন উৎসবমুখর। গির্জা বা উপাসনলয়গুলো সাজানো হয়েছে নানা রং-বেরংয়ের সাজে।xmas-1

স্বজনদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইতোমধ্যে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসেছেন পেশাজীবী মানুষ। বড়দিন উপলক্ষে যিশুর আগমন বার্তা সবাইকে জানান দিতে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নগরকীর্তন। বড়দিন ঘিরে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে বাড়ির গৃহিনীরা বাড়িঘর আলোকসজ্জা আর পিঠাপুলির আয়োজন করেছেন।

পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ঝিনুক রোজারিও বলেন, বড়দিন উপলক্ষে আমাদের প্রত্যেকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সে কারণে প্রত্যেক বাড়িতে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা করেছি। প্রত্যেক বাড়িতে গোশালা স্থাপন ও সেটিকে সাজিয়ে পরিপূর্ণ করেছি।

একই এলাকার গৃহিনী রীনা বর্মন বলেন, বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্নস্থান থেকে আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে এসেছেন। আমরা ঘর সাজিয়েছি, ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়েছি, গোশালা তৈরি করেছি। অতিথিদের জন্য পিঠাপুলি, পায়েশসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করেছি।

xmas3পাবনা ব্যপ্টিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক স্টিফেন সরকার বলেন, ‘বড়দিন ঘিরে আমরা সপ্তাহব্যাপী অনেক রকমের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্যে নগর কীর্তন, বড়দিনের উপাসনা, কেক কাটা, পিঠা পর্ব, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। আমরা আশা করি প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা এবারের বড়দিনের উৎসব উদযাপন করতে পারবো।’

পাবনা ব্যপ্টিস্ট চার্চের পালক মি. ইসাহাক সরকার বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্ট আমাদের পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাই এ দিনটিকে আমরা বড়দিন হিসেবে উদযাপন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অশান্ত পৃথিবীতে যাতে শান্তি স্থাপন করা যায়, আমাদের দেশে-দেশে, সমাজে-সমাজে, মানুষে-মানুষে যাতে কোনও বিভেদ ও অশান্তি না থাকে, সেপ্রত্যাশা নিয়ে এবারের বড়দিন উদযাপন করবো।’

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, ‘আসন্নশান্তিপূর্ণ পরিবেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে বড়দিন উদযাপন করতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব চার্চ ও গির্জায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকি পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি আগাম তথ্য পাওয়ার জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে।’

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পাবনায় এবার ১৯টি গীর্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড়দিনের উৎসব ছুয়ে যাক সবার প্রাণ, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।