ভারত থেকে কারামুক্ত কিশোর সিরাজগঞ্জের কারাগারে

অমৃত কুমার সূত্রধরভারত থেকে ১৪ মাস কারাভোগ শেষে সদ্য দেশে ফেরা অমৃত কুমার সূত্রধরকে (১৭) অপহরণ মামলায় সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর থানা পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠায়।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম, কোর্ট পরিদর্শক বাবুল উদ্দীন সরদার ও জেলা কারা তত্ত্বাবধায়ক আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অমৃত কুমার সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিয়ালকোল গ্রামের সুকুমার চৌধুরী সূত্রধরের ছেলে। সে চট্টগ্রামের একটি কলেজে পড়াশুনা করতো। ভারতে ১৪ মাস কারাভোগের পর রবিবার (৭ জানুয়ারি) অমৃত কুমারকে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশের বরাত দিয়ে জানান,‘সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি অপহরণ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় অমৃতকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশ অমৃতকে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে রবিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে এসে সোমবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায়।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক আলী জাফর জানান, অমৃত তার প্রেমিকা সিরাজগঞ্জ গৌরি আরবান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা আক্তার মুক্তাকে নিয়ে ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যায়। ঘটনার চার দিন পর মুক্তার স্বজনরা অমৃতসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা (নং-৮, তারিখ:০৬/১১/১৬) করেন। পুলিশ অমৃতকে খুঁজে না পাওয়ায় তাকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে দীর্ঘ ৯ মাস পর তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তারপর থেকে সে চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর ভারতে প্রবেশের পর শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ডে গেলে স্থানীয়রা অমৃত ও মুক্তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে অমৃতকে বালুরঘাট শোভায়োন হোম এবং প্রেমিকাকে মালদার চিলড্রেন হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শোভায়োন হোমে অমৃত ১৪ মাস আটক ছিল। ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতীয় অভিবাসন পুলিশ রবিবার (৭ জানুয়ারি) অমৃতকে হস্তান্তর করে। অমৃতের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা থাকায় তাকে সেখানকার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। উভয় পরিবারের আপসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেও মামলা এখনও শেষ হয়নি। তাই অমৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, গত ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর কারাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারত থেকে একইভাবে দেশে ফেরেন অমৃত কুমারের প্রেমিকা তাহমিনা আক্তার। পরে তাকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।