শিবির সন্দেহে ৯ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে দিল রাবি ছাত্রলীগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিবিরের সদস্য সন্দেহে ৯ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে পেটানোর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে আহত শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য বৈঠক করার সময় তাদের ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ।

আটক শিক্ষার্থীরা হলেন- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রহমতুল্লাহ, শাহরিয়ার তানজিম ও আব্দুল কাদের, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের  ইয়াকুব, সংস্কৃত বিভাগের মিজানুর রহমান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তুহিন। নগরীর লোকনাথ স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি ও রাজশাহী সিটি কলেজের তন্ময়। এদের মধ্যে তুহিন, কাদের এবং ইয়াকুবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে মিটিং করছিলেন ১৬ জন শিক্ষার্থী। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে যায়। হলের ২৩১ ও ২৩২ নম্বর কক্ষে নিয়ে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ সেখানে যান। এরপর ১৬ জনের মধ্যে ৯ জনকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশে সোপর্দ করেন। বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শিবিরের মিটিং করার খবর পেয়ে আমরা গিয়ে তাদের বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে আসি। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে ৯ জনকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের পুলিশে দিয়েছি। আর বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তবে আটকৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের নোমান ও লোকনাথ স্কুলের গোলাম রাব্বী বলেন, ‘আমরা একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করি। আমাদের কোচিং থেকে এবছর বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আমরা প্রস্তুতি মিটিং করছিলাম। এসময় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন আমাদের তুলে নিয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শোনার পরপরই আমরা বঙ্গবন্ধু হলে গিয়েছিলাম। হল প্রাধ্যক্ষ ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমাদের কাছে ৯ শিক্ষার্থীকে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’