মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রাবি শিক্ষকের আপস

রাজশাহীএকে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এটিএম এনামুল জহিরের মধ্যে আপোষ হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। হাসপাতালে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই জনের মধ্যে এই বিরোধ তৈরি হয়। 

মঙ্গলবার রাতের সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মাহাবুবর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন না শিক্ষক এটিএম এনামুল জহির। তার পক্ষে রাবির উপাচার্য এম আবদুস সোবহান ও উপউপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সভায় আলোচনা চলে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ মার্চ দু’পক্ষের মামলার শুনানির দিন তারা নিজেদের মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাবির আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এনামুল জহির রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ের জন্য ওষুধ কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হাসপাতালের ভেতর মেরি প্রিয়াঙ্কা নামে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ সময় মেরি প্রিয়াঙ্কা তাকে বলেন, ‘রাস্তা দেখে চললে ভালো হয়’। জবাবে শিক্ষক এনামুল জহির তাকে ‘ননসেন্স’ বলেন। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক এনামুল জহির এ সময় ওই নারী ইন্টার্নকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। পরে রামেকের ইন্টার্নরা একত্রিত হয়ে তাকে মারধর করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে পরদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত-ই-খোদা তার আদালতে স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। এছাড়া রাজশাহীর একজন আইনজীবীও বাদী হয়ে রামেকের আট ইন্টার্ন চিকিৎসের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আবার নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর এবং তাকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাবি শিক্ষক এনামুল জহিরের বিরুদ্ধেও আদালতে একটি মামলা করা হয়। আগামী ১ মার্চ সবগুলো মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এ অবস্থায় মামলা প্রত্যাহার ও শিক্ষক এনামুল জহিরের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন ইন্টার্নরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় জরুরি চিকিৎসা। খবর পেয়ে সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় তিনি বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই সন্ধ্যায় এ সভা ডাকা হয়।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক এনামুল জহির এখন ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যেসব ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল, তারা ঢাকায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের ভুল বোঝাবোঝির অবসান করে নেবেন।’

এদিকে উভয়পক্ষের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও আদালতের স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা একটি পিটিশন মামলা থেকেই যাবে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘শিক্ষক এনামুল জহিরের কাছ থেকে লিখিতভাবে অনাপত্তি গ্রহণ করবে পুলিশ। এরপর সেটি আদালতে দাখিল করা হবে। তখন ওই মামলাটিরও নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।’