এখন শুধু ছেলের লাশের অপেক্ষায় আছেন জামালের মা

ছেলের ছবি হাতে বাবা-মা পাশেই সংজ্ঞাহীস জামালের স্ত্রী

মালিতে নিহত বাংলাদেশি সেনা সদস্য জামাল উদ্দিনের মা ছেলের লাশ দ্রুত দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,‘আমি এখন শুধু ছেলের মুখটা দেখতে চাই।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ধুমিহায়াত পুর ঘাইসা পাড়ার গ্রামে সৈনিক জামালের বাড়ি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাবার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ জামালের সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে শিমুল। নিহত জামালের মা ফেরদৌসী খাতুন ছেলেকে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। স্বামীকে হারিয়ে জ্ঞানহীন অবস্থায় বিছানা নিয়েছেন জামালের স্ত্রী শিল্পী খাতুন। গণমাধ্যমের সামনে তিনি কোনও কথাই বলতে পারেননি। জামালের একমাত্র ছেলে কখনও দাদুর কোলে, কখনো দাদির কোলে বসে বাবাকে খুঁজছে। কখনও বা বিছানায় পড়ে থাকা মায়ের পাশে বসে ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে। ছেলে হারানো পরিবারটিকে সান্তনা জানাতে আসছেন এলাকার লোকজনসহ স্বজনরা।

দাদার কোলে নিহত জামালের পাঁচ বছরের ছেলে

 বুধবার রাত ১১টায় জামালের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এই খবরে শোকে ভারি হয়ে উঠে পুরো এলাকা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জামাল ছিলেন সবার বড়। জামাল পরিবারের সঙ্গে ফোনে শেষ কথা বলেছেন গত সোমবার। জামাল মালিতে সাড়ে ৯ মাস ধরে অবস্থান করছেন। তিন মাস পরেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

জামালের বাবা মেসের আলী জানান, জামাল ২০০৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। ছেলের মরদেহ দ্রুত পরিবারে কাছে পৌঁছানোসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, জামাল খুব মিশুক প্রকৃতির ছিল এবং সবার সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক ছিল। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জামালের মরদেহ দ্রুত আনার দাবি জানান তিনি।

মালিতে নিহত জামাল