জনশ্রুতি আছে, প্রায় পাঁচ’শ বছর আগের এই মেলায় এক সময় উট ও দুম্বার ব্যাপক আমদানি হতো। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সেগুলি আমদানি করা হতো। কালের বিবর্তনে ওইসব প্রাণীর পরিবর্তে জায়গা করে নেয় গরু,মহিষ এবং ঘোড়া। এ ছাড়া বিনোদনের জন্য যাত্রা, সার্কাস, পুতুল নাচ এবং সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র কাঠ, স্টিল ও প্লাস্টিকের ফার্নিচার, মিষ্টান্ন,মসলা, জুতা ও কাপড়সহ এমন কোনও জিনিষ নেই যা এ মেলায় আমদানি হয় না। প্রায় দুই কিলোমিটার বর্গাকার এ মেলাকে ঘিরে এলাকার প্রায় ২০ গ্রামে চলে স্বজন সমাবেশ।
দিনাজপুর জেলার চিরির বন্দরের বাসুদেবপুর গ্রাম থেকে আসা ঘোড়া ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন মেলায় এনেছেন পাকিস্তানি তাজিয়া ঘোড়া। দাম হাঁকছেন আড়াই লাখ টাকা। একজন ক্রেতা পৌনে দুই লাখ টাকা দাম বললেও শেষ না দেখে বিক্রি করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন,‘১০ বছর ধরে এ মেলায় ঘোড়া কেনাবেচা করছি। কিন্তু ঘোড়া দৌড়ের মাঠ না থাকায় খুব সমস্যা হয়। ঘোড়া দৌড় ঠিক মতো দেখানো না গেলে বিক্রি করা যায় না।’
মেলায় মহিষ এবং গরুও আসতে শুরু করেছে। ঘোড়ার মেলা শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে মহিষ ও গরু বেচাকেনা। সবচেয়ে পরে বসে কাঠ ও স্টিলের ফার্নিচারের দোকান। গ্রামের মানুষরা এই মেলা থেকে মেয়ে জামাই এর জন্য ফার্নিচার, পুরো বছরের জন্য মসলাপাতি, কাপড় এবং সংসারের যাবতীয় জিনিষপত্র সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার এই মেলা প্রসঙ্গে বলেন,‘ এ অঞ্চলে এত পুরাতন মেলা আর কোথাও নেই। কালের বিবর্তনে আগের চেয়ে মেলার অবয়ব ছোট হলেও এখনও এই মেলার কারণে এলাকার আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মেয়ে জামাই থেকে শুরু করে এমন কোনও আত্মীয় নেই যারা মেলার সময় বেড়াতে আসেন না। মেলার জন্য জয়পুরহাট, বগুড়া ও আক্কেলপুর থেকে স্পেশালভাবে বাস সার্ভিস চালু হয়। মেলায় পুলিশ প্রশাসন ছাড়াও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে। কাগজে কলমে এই মেলার অনুমতি ১৩ দিনের হলেও চলে এক মাস ধরে।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান,মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি সার্বক্ষণিক নজরও রাখছেন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ মেলার ঐতিহ্য ফেরাতে যেন কোনও প্রকার অনিয়ম, অশ্লীলতা না থাকে সে ব্যাপারেও তাদের নজরদারি রয়েছে।