বগুড়ার সান্তাহারে জাতীয় পার্টির (জাপা) অফিস ভাঙচুর করেছে শ্রমিক লীগ ক্যাডাররা। আদমদীঘি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস হাসান সুমন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় আসায় এ ঘটনা ঘটে। জাপা নেতা ফেরদৌস হাসান যুবলীগ নেতা শফিকুল হত্যার প্রধান আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। শনিবার দুপুরের এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আদমদীঘি থানার ওসি ওয়াহেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ’
জানা গেছে, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগঠনে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে গত ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি দুপুরে শ্রমিক নেতা নুর ইসলাম পক্ষের সঙ্গে জাপা নেতা সুমন পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে নিহত হন নুর ইসলামের ছোট ভাই সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। এর দুই দিন পর মারা যান সংঘর্ষের সময় আহত অটোচালক সোহরাব হোসেন সোহাগ। এ মামলার সব আসামি পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রায় এক মাস আগে জামিন লাভ করেন ওই মামলার প্রধান আসামি জাপা নেতা ফেরদৌস হাসান সুমন। তিনি শনিবার সান্তাহারে আসছেন এমন খবরে মামলার বাদী পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি জাপা নেতাকে নিয়ে শহরে কোনও শোডাউন না করার নির্দেশ দেয়। এতে জাপা নেতা ও কর্মীরা সম্মত হয় এবং মেনে চলে। জাপা নেতা ফেরদৌস হাসান সুমন শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে আদমদীঘি আসেন। কর্মী-সমর্থকরা তাকে আদমদীঘি থেকে বরণ করে সান্তাহারের পোস্ট অফিসপাড়ার দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
আদমদীঘি থানার ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, জাপা নেতা সুমন দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এমন খবরে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত শ্রমিক লীগের বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থক জাপা কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় জাপা নেতা সুমন ও কর্মীরা পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে হামলাকারীরা জাপা কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করে। এ ঘটনার সময় ভীতসন্ত্রস্ত পথচারীরা ছুটোছুটি করেন। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন। ভাঙচুরের ভয়ে পরিবহণগুলো অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে বেশ কিছু ব্যবসায়ী পোস্ট অফিস মোড়ের প্রধান রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শ্রমিক লীগের দায়িত্বশীল নেতারা ফোন বন্ধ রাখায় এ ব্যাপারে কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ২০৪১ সালে বাংলাদেশ থাকবে উন্নত বিশ্বের কাতারে: পরিকল্পনামন্ত্রী