শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

দুদক

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। হাঁট-বাজারের টেন্ডারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এ তদন্ত করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের অনিয়মের তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার তার কার্যালয় থেকে কিছু ফাইলপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ফাইল সংগ্রহ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

ইউএনও মো. কামরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন,‘দুদক কর্মকর্তা হাঁট-বাজারের ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্তে এসেছিলেন, তবে কোনও ফাইলপত্র নিয়ে যাননি।’

ইউএনও কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হল, শাজাহানপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে জনগণ বিশেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তার অফিসের সামনে সার্বক্ষণিক দুই জন আনসার সদস্য প্রহারায় থাকায় সাক্ষাৎপ্রার্থী জনগণ খুব সহজে তার কাছে যেতে পারেন না। এতে জনগণ প্রশাসনের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন, টেন্ডার ছাড়াই সাত লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ সংস্কার, তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন, গ্রাম পুলিশদের সময় মত বেতন না দিয়ে তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করা, হিন্দুপাড়ায় কৃষি স্কীম ভাঙচুর, জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাজ কাচারি প্রাচীর নির্মাণ এবং পরে ক্ষমা চেয়ে তা খুলে দেওয়া, অভিযোগ দেওয়ার পরও ভুয়া এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, ইট ভাটার কারণে লক্ষাধিক মানুষের মানবেতর জীবন যাপনের সংবাদ প্রকাশের পরও ইট ভাটা মালিক সমিতির সঙ্গে চাইনিজ রেস্তরাঁয় খাওয়া-দাওয়া, সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাঁট-বাজার ইজারা না দেওয়া ও সিডিউল ছিড়ে ফেলা, স্থানীয় সাংবাদিকদের ফোন নম্বর ব্লাক লিস্টে রাখা এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শাজাহানপুর উপজেলার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আশ্বাস সত্বেও জেলা প্রশাসন থেকে তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনগণ ইউএনও’র অনিয়মের ব্যাপারে দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: কাজ করে বাঁচতে চান ঢাবি’র সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুজ্জামান