অপহরণের ১২ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি বিডিআরের সাবেক সদস্য

নাটোরনাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহর থেকে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি বিডিআরের সাবেক সদস্য ও স্থানীয় পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের কোষাধ্যক্ষ গোলাম রসুল স্বাধীন (৪০)। শনিবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পৌর শহরের একটি ফলের দোকানের সামনে থেকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে তাকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
স্বাধীন লালপুর উপজেলার গোপালপুর খাঁ পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি স্বপরিবারে বনপাড়া হারোয়াতে বাস করেন। স্থানীয় পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি চাকরি করছেন।
পুলিশ বলছে, অপহৃতকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সময় যতই যাচ্ছে উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের।
স্বাধীনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম দাবি করেন, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে ফল কেনার জন্য স্থানীয় হাইওয়ে থানা মোড়ে যায় তার স্বামী। এসময় দোকানটির সামনে থেকে সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ফল বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, স্বাধীন তার কাছে ফল কিনতে এসেছিলেন। এরই মধ্যে দুটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস তার দোকানের সামনে এসে থামে। পেছনের মাইক্রোবাস থেকে পাঞ্জাবী পড়া ৩০-৩২ বছর বয়সের এক লোক এসে স্বাধীনকে জানায় যে গাড়ির ভেতরে স্যার তাকে ডাকছে। গাড়ির কাছে যেতেই আরও দুই/তিন জন নেমে স্বাধীনকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে চলে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার দাবি করেন, ওই সময় আশেপাশে আরও লোকজন থাকলেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি দুটি দ্রুত চলে যায়। ফলে কেউ গাড়ি দুটির নম্বর সংগ্রহ করতে পারেনি।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালের মালিক, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী দাবি করেন, স্বাধীনের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা আছে বলে তার জানা নেই।
এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ওসি শাহরিয়ার খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিষয়টি অপহরণ না আত্মগোপন নাকি অন্য কিছু তা তদন্ত শেষ না করে বলা যাচ্ছে না। তবে স্বাধীনের খোঁজ পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।