এর আগে দুর্বৃত্তরা ওসি পরিচয়ে ফোন দিয়ে পোস্ট মাস্টারকে থানায় ডেকে নিয়েছিল। অন্যরা মাইক্রোবাসে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। গণপিটুনির শিকার গুরুতর একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন- ঢাকার ওয়ারির নারিন্দা এলাকার আবদুল হান্নান (৫৪) ও ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার সাব্বির আহম্মেদ (৩৫)। মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর একজন হলেন- ঢাকার গেন্ডারিয়ার মাসদু রানা।
শিবগঞ্জ থানার এসআই মুকুল জানান, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে ৪-৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত মাইক্রোবাসে সহকারী পুলিশ সুপার শিবগঞ্জ সার্কেলের কার্যালয়ের কাছে পোস্ট অফিসে আসে। দুইজন পোস্ট অফিসে ঢুকে নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার (পোস্টাল অপারেটর) জাহানুর ইসলামের কক্ষে ঢোকে। তারা সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে চায়। মাস্টার তাদের সোমবার আসতে বলেন। তখন তারা মাস্টারের কাছে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মাস্টারের কাছে ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে শিবগঞ্জ থানার ওসির পরিচয় দিয়ে বলা হয়, এসপি সাহেব থানায় এসেছেন; আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান। মাস্টার ফাইলপত্র গুছিয়ে কিছুক্ষণ পর থানায় যেতে চান। প্রায় ১০ মিনিট পর আবারও ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, এসপি সাহেব চলে যাবেন তাড়াতাড়ি আসুন। তখন মাস্টার দ্রুত অফিস থেকে শিবগঞ্জ থানায় যান। অফিসের কর্মচারীরা ব্যস্ত থাকায় দুই দুর্বৃত্ত পোস্ট মাস্টারের কক্ষে ঢুকে ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৪ লাখ টাকা বের করে ব্যাগে তোলে। টাকা নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অফিসের কর্মচারী মোকলেছার রহমান, বাদল চন্দ্র ও নয়ন চন্দ্র টের পেয়ে তাদের ধাওয়া ও চিৎকার করতে থাকেন। তখন আশপাশের লোকজন ছুটে এসে টাকাসহ হান্নান ও সাব্বিরকে হাতেনাতে আটক করেন। এসময় মাসুদ রানাসহ অন্যরা মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা দু’জনকে গণপিটুনি দেন। এদের মধ্যে গুরুতর সাব্বিরকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার জাহানুর ইসলাম বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা ওসি পরিচয়ে আমাকে থানায় ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। তারা আমার অফিসের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। কর্মচারী ও জনগণ তাদের দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।