বুধবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩০টি ওয়ার্ডের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য সিটি করপোরেশন (রাসিক) ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠনে এসে তিনি এবস কথা বলেন। ওই প্রতিষ্ঠান রাজশাহী নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৭৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করবে। রাসিকের সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভপতিত্ব করেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বজলুর রহমান।
রাজশাহীতে বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘রাজশাহীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার হাজার-হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। রাজশাহী ওয়াসার অধীনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (বিশুদ্ধ পানি শোধনাগার) নির্মাণ করা হবে। সরকারি অনুমোদন হয়ে গেছে। এটি ৩৩ হাজার কোটি টাকার কাজ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।’
বাদশা বলেন, ‘রাজশাহীতে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এর কাজ সম্পন্ন হবে। হার্টের চিকিৎসার জন্য জমি-বাড়ি বিক্রি করে আর কাউকে বিদেশে যেতে হবে না। এই হাসপাতালটি নিজস্ব কমিটির দ্বারা পরিচালিত হবে। রাজশাহীর উন্নয়ন কাজ এখানেই থেমে নেই। বিন্দুর মোড় হতে (গ্রেটার রোড) নওহাটা ব্রিজ পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা কাজ শুরু করার।’
রাজশাহীতে কর্মস্থানের সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে সাংসদ বাদশা বলেন, ‘রাজশাহীতে উন্নয়ন হচ্ছে। তবে নতুন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে না। এই অঞ্চলে শিল্প করখানা নির্মাণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। গার্মেন্টস নির্মাণে সরকারিভাবে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যায়। উত্তরের এই অঞ্চলে গার্মেন্টস নির্মাণে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিতে আমি সরকারের কাছে আবেদন করেছি। রাজশাহী-ঢাকা চলাচলের জন্য বিরতিহীন একটি ট্রেনের কথা আমরা বার-বার বলে আসছি; তাবে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তা সম্ভব নয়। কারণ সেতুতে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ যান চলাচল করছে তার ওপর যদি নতুন ট্রেন দেওয়া হয়, তবে সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। তবে আশার কথা, আগামী বাজেটে যমুনার ওপর আরেকটি সেতু করার জন্য প্রস্তাবনা আসতে পারে।’
রাসিকের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ আমাদের ভিন্ন হতে পারে, তবে রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এক সঙ্গে থাকবো। রাজশাহী সিটি করপোরেশন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। আমরা আজ এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ওয়াসার পরিচালক, রোডস এর প্রধান ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তার কারণ আমরা চাই উন্ননের কাজ স্বচ্ছভাবেই হোক, সবার উপসিস্থতিতেই হোক। রাজশাহীতে উন্নয়নে আরও বহু কিছু করার আছে, আমরা সবাই মিলে সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছি। কারণ সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
চুক্তি সম্পাদন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) আকতাবুল ইসলাম, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মোমিন, প্রধান প্রকৌশলীসহ ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।