চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানাগুলো এখনও কঠোর নজরদারিতে

শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানসাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থানের পাশাপাশি তা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও ছিল বেশ কয়েকটি সফল অভিযান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০১৭ সালে বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় এমন সফল অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব ও পুলিশের এসব অভিযানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ ও ‘চর আলাতুলির অভিযান’। এসব জঙ্গি আস্তানায় নতুন কোনও তৎপরতা দেখা না গেলেও পুলিশের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

দুটি অভিযানেই মারা যায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি। এসব অভিযানের ঘটনায় শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন আইনে মামলা হয় দুটি। বর্তমানে সেগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

গতবছরের ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল তিনদিনের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ অভিযানে মারা যায় জঙ্গি আবু ও তার ৩ সহযোগী। একই বছরের ২৭ নভেম্বর চর আলাতুলির মধ্যচরে র‌্যাবের অভিযানে মারা যায় আরও তিন জঙ্গি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় হাতকাটা মাহফুজ ওরফে সোহেল মাহফুজসহ আরও অনেকে। 

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) হাবিবুল ইসলাম জানান, ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ অভিযানের পর শিবগঞ্জ থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

অভিযানে নিহত জঙ্গি আবুতিনি জানান, সফল এ অভিযানের পর জঙ্গি আবু শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিংনগর গ্রামের যে বাড়িটিতে ভাড়া থাকতো, সেটি সিলগালা করে পুলিশের জিম্মায় ছিল। বাড়িটি এখন পর্যন্ত বন্ধ করেই রাখা হয়েছে। বাড়িটির মালিক মালিকানা ফিরে পেলেও মামলা চলমান ও তদন্তাধীন থাকায় তিনি এখনও বাড়িটি ব্যববহার করতে পারছেন না।

ওসি আরও বলেন, ‘বাড়িটি নিয়ে পুলিশের নতুন কোনও পরিকল্পনা নেই; আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বাড়ির মালিক জেন্টু বিশ্বাসকে বাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

এসব আস্তানায় এখন আর কোনও সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘নতুন কোনও সন্দেহজনক তৎপরতা এখন পর্যন্ত দেখা না গেলেও জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’

শিবগঞ্জের এই বাড়িতে আস্তানা গেড়েছিল জঙ্গিরাঅন্যদিকে, র‌্যাবের চর আলাতুলির মধ্যচরের অভিযানটি ছিল একটি বাথান বাড়িতে। এই অভিযানে মারা যায় ৩ জঙ্গি। তবে বাথান বাড়ি হওয়ায় এবং বাড়িটির আশপাশে  লোকালয় না থাকায় সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে নেই এবং অপারেশন চলার সময় বাড়িটি বোমার বিস্ফোরণে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।