আবদুল্লাহ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার চার বছর পর মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। বুধবার গ্রেফতারকৃত আসামি শরিফুল ইসলাম রুবেলকে (৩২)সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। পরে তাকে হাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বগুড়ার পরিদর্শক সেলিম রেজা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গাবতলী থানা পুলিশ তদন্ত করে এজাহারে উল্লেখ তিন জনসহ মোট সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই বগুড়াকে নির্দেশ দেন। গোপনে সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত পৌণে ২টার দিকে শরিফুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর সাগরপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। রুবেল বগুড়ার গাবতলীর চক সেকেন্দার গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানিয়েছে ভিকটিম আবদুল্লাহ মণ্ডল তার জ্যাঠাতো ভাই। আবদুল্লাহর বড় ছেলে আলী হাসান ব্যবসার নামে বিভিন্ন সময় তার (রুবেল) কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেয়। রুবেল নিজের ও ভাইয়ের জমি বিক্রি করে এবং ভাতিজির গহনা বন্ধক রেখে তাকে টাকাগুলো দেয়। কিন্তু আলী হাসান ব্যবসা না করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করে। রুবেল টাকা ফেরত চাইলে, হাসান নিজের স্ত্রীকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মামলা করায়। পরে সে জ্যাঠা ভাই আবদুল্লাহর কাছে টাকার কথা বলতে গেলে তিনি তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও সেন্ডেল দিয়ে মারতে যান। টাকা ফেরত না পেয়ে রুবেল অনার্সে ভর্তি ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জ্যাঠাতো ভাই আবদুল্লাহ তার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা না করে গালিগালাজ করায় রুবেল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল বগুড়া শহরের চেলোপাড়া থেকে ২০ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেলের ক্লাচের তার কেনে। পরদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘরে ঢুকে আবদুল্লাহ মণ্ডলকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় ক্লাচের তার পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। ওই ক্লাচের তার বাড়ির কাছে ভাঙ্গারির দোকানের মালামালের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে আবদুল্লাহর ছেলে আলী হাসান গাবতলী থানায় হত্যা মামলা করে। রুবেল বুধবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে আহত