ভারত সরকারের অনুদানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক)বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি এ সব কাজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও রাজশাহীতে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাই কমিশনার অভিজিৎ চট্টোপ্যাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) শহরের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছে। ‘সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রত্মতত্ব অবকাঠামো উন্নয়ন সাধন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে রাজশাহী নগরীর টেকসই উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই টাকা ব্যয় করছে রাসিক। এর মাধ্যমে পুরনো মঠ, লেক ও পুকুর সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত ও গ্রন্থাগার ভবন।
সোমবার সকালে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রথমেই রাজশাহী নগরীর ভদ্রা এলাকায় ‘পদ্মা পারিজাত লেক’ পরিদর্শনে করেন। ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকায় লেকটি সংস্কার করা হচ্ছে। এরপর তিনি নগরীর তালাইমারী এলাকায় দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার’ ভবনের নির্মাণ কাজ দেখতে যান। পরে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটপাত নির্মাণের কাজ পরিদর্শন করেন। ওই এলাকার রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মিত হচ্ছে। এটি পরিদর্শন শেষে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নগরীর টি-বাঁধে গিয়ে পদ্মাপাড়ে কিছু সময় কাটান। পরে বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রিংলা নগরীর সপুরা এলাকার মঠ ও পুকুর সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করেন। সেখানেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
‘ভারত সব সময় রাজশাহীর উন্নয়নে সহযোগিতা করবে’ এই আশ্বাস দিয়ে তিনি রাজশাহীকে গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি,অ্যাডুকেশন সিটি ও শান্তির শহর বলে আখ্যায়িত করেন।
কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন,‘ভারত সব সময় বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীনে সহযোগিতা করেছে। তাই দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।’
শ্রিংলা আরও বলেন, ‘এই শহরে আমার দ্বিতীয় সফর। আর রাজশাহী ভারতের প্রতিবেশী শহর। এই শহরের উন্নয়নে ভারত সরকার প্রকল্প দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বাংলাদেশ-ভারতের এই সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে।’
রাজশাহী-কলকাতায় ট্রেন চালুর বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন,‘রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার পরামর্শে আমরা রাজশাহী থেকে মালদা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একটি মৈত্রী ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এ নিয়ে দুই দেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা গেছে। এটির প্রস্তুতি খুব ভালো। কারিগরি প্রস্তুতিগুলো শেষ হলেই ট্রেনটি চালু হবে। দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন ভারতীয় সেনারা। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রক্তের সম্পর্ক। এছাড়াও ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ।’ রাজশাহীর উন্নয়নে টাকা দেওয়ায় তিনি হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রাজশাহী সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘রাজশাহীর সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের একটি স্মারক তৈরি হয়েছে। ভারত যে টাকা দিয়েছে তা দিয়ে রাজশাহীকে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে রাসিক। এজন্য পুরনো মঠ ও জলাশয় সংস্কার করা হচ্ছে। ভারতের টাকায় এমন সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যা দেখে মানুষ সহজেই ভারতের অবদান অনুধাবন করতে পারে।’ আগামীতে এই সিটিকে আরও সুন্দর করার জন্য সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান মেয়র।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতের ১১টি পয়েন্টে ফ্রি ওয়াইফাই অনুমোদন: পলক