রাজশাহীতে বালু নিয়ে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতার দ্বন্দ্বে ঝাটা মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগ নেতা আব্বাস আলীর নেতৃত্বে কাটাখালি বাজারে ঝাটা মিছিল করেছে স্থানীয় নারী-পুরুষরা।
জানা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভায় ১২০ একরের দুটি সরকারি বালুমহাল রয়েছে। বালুমহল দুটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর দখলে ছিল। সম্প্রতি এর দখল নিয়ে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর সঙ্গে আজিজুল আলম বেন্টুর বিরোধ হয়।
কাটাখালি পৌরসভার মেয়র ও মহানগর যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন,‘গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহীর সব জনগণ আজিজুল আলম বেন্টুর ‘বালু সন্ত্রাস’ বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে আছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বালুমহালগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কারও পক্ষেই এক গাড়ি বালু কেনা সম্ভব নয়। তিনি যে দাম নির্ধারণ করে দেবেন, তা সবাইকে মেনে নিতে হয়। ফলে রাজশাহীতে বালুর দাম বেড়েই চলেছে। রাজশাহীবাসীকে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতেই তার বিরুদ্ধে ঝাটা মিছিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,‘এই জিম্মিদশার প্রতিবাদ করায় কাটাখালিতে দলীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। আমরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু বলেন, ‘স্থানীয় এমপির অনুরোধে কাটাখালীর স্থানীয় নেতাদের বালুমহালের ৪০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিয়েছি। এখন মেয়র বালুর শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছেন। আমি ইজারাদার হলেও মেয়র আব্বাস গত ২২ মার্চ থেকে দুটি বালুমহাল দখল করে নিয়েছেন। আমার লোকদের সেখান থেকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এঘটনায় আমি মামলাও করেছি। এখন মেয়র বলছেন, তার পৌরসভার ঘাটে টেন্ডার ছাড়া নামতে দেওয়া হবে না। আমি তো বালুমহাল ইজারা নিয়েছি। বালুর মহলের টেন্ডার হয় কিন্তু বালুর ঘাট কখনো টেন্ডার হয় না। তারপরও মেয়র ৩০ টাকার ঘাটের ইজারা মূল্য বাড়িয়ে সাতশ’ টাকা পর্যন্ত করে টোল আদায় করছেন। এসব কারণে আমি সেখানে ঘাট না করে অন্যখানে করতে চাইছিলাম। কিন্তু তিনি এটা মানবেন না।’
রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী বলেন, ‘চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর নামে বালুমহাল দুটি দীর্ঘদিন ধরে আজিজুল আলম বেন্টুর দখলে। বালুমহালের টেন্ডারে বেন্টু কাউকে অংশ নিতে দেন না। তিনি কিছুদিন পরপর বালুর দাম বাড়াতে থাকেন। বালুমহালের ঘাট পৌরসভার মধ্যে হওয়ায় পৌরসভার পক্ষ থেকে ঘাট ইজারা নেওয়ার কথা বলেও তাদের সাড়া পাইনি।’
পৌরসভার রাজস্বের স্বার্থে ঘাটগুলো ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ঘাটগুলো পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের নামে আজিজুল আলম বেন্টু মামলা দিয়েছেন। তিনি ঘাট সরিয়ে নিতে চাইছেন। ঘাট সরালে এখানকার অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এসবের প্রতিবাদে এলাকাবাসী আজিজুল আলম বেন্টুর বিরুদ্ধে ঝাটা মিছিল করেছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশনারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন