মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষায় জয়পুরহাট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী রহমানকে একাডেমিক ভবনের পেছন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে জয়পুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে বগুড়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনা কেন, কীভাবে ঘটেছে; তা কেবল ওই শিক্ষার্থীই বলতে পারবে। তবে এ বিষয়ে তার পরিবার কোনও অভিযোগ করেননি।’
আব্দুর রহমান আক্কেলপুর মজিবর রহমান কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র। আক্কেলপুরের চাপাগাছির হরিপুর গ্রামে তার বাড়ি।
রহমানের বড় ভাই সাদেক আলী জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে আক্কেলপুরের চার যুবক তাকে কলেজ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। তার জ্ঞান ফিরলেও সে কথা বলতে পারছে না। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘রহমানের শরীরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ একটি সিরিঞ্জ ও রক্তমাখা একটি ব্লেডও ওই স্থান থেকে উদ্ধার করেছে।’
জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুল হক রয়েল বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়। তার কপালের বাম পাশে এবং হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।’
আক্কেলপুর মজিবর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোকছেদ আলী বলেন, ‘রহমান মানবিক বিভাগের নিয়মিত ছাত্র।’ তবে কী কারণে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটলো, সেটা তিনি জানেন না।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যেই অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে আব্দুর রহমান জয়পুরহাট সরকারি কলেজকেন্দ্রে প্রবেশ করে। সাড়ে নয়টার দিকে তার বন্ধু মাহবুব হোসেনের হাতে প্রবেশপত্র দিয়ে সে ওয়াশরুমে যায়। পরীক্ষা শুরুর পর রহমান আর ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজির পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের পেছনে দক্ষিণ পূর্ব কর্নারে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।