জানা গেছে, সহকারী পরিচালক বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত ও সেবামুখি করায় শহর যুবলীগের দফতর সম্পাদক এবং বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হত্যাসহ ৪টি মামলার আসামি মোস্তাকিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়। গত ২৭ মার্চ দুপুরে তারা অফিসে ঢুকে সহকারী পরিচালক সাহজাহান কবিরকে হুমকি দিয়ে আসে। ২৯ মার্চ দুপুরে সহকারী পরিচালক মেহেরপুরের বাড়িতে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় বগুড়া শহরতলির শাকপালা বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার কৈগাড়ি এলাকায় বিভাগীয় বন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে মোটরবাইকে আসা মুখোশধারী দৃর্বৃত্তরা তার পথেরোধ করে। পরে তিনি দৌড়ে বন বিভাগের অফিসের একটি কক্ষে ঢোকেন। দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে পাশের মসজিদ থেকে মুসল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে যুবলীগকর্মী মোস্তাকিমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মোস্তাকিম ও তার বাহিনীর ৪ সদস্যকে দিনাজপুর ও বগুড়া থেকে গ্রেফতার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ এদের মধ্যে মোস্তাকিমকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। বর্তমানে সহকারী পরিচালক ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ওপর হামলার পর থেকে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নোটিশ টানিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে বগুড়া পাসপোর্ট অফিসের অচলাবস্থা নিরসনে জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকী বুধবার সকালে পরিদর্শনে যান। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।
পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী নাজমুল হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় ৭ শতাধিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করা যায়নি। বৃহস্পতিবার নতুন কর্মকর্তা আসলে সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে এখানে যোগদান করতে ইতোমধ্যেই সহকারী পরিচালক রওয়ানা হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওই কর্মকর্তা যোগদান করবেন।