উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনা তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পর বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কৃষকেরা জানান, ক্ষেতর বোরো ধানে পাক ধরেছিল। আর ২০-২৫ দিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু কয়েক দিন থেকে শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর গ্রামের মানুষ হঠাৎ প্রচণ্ড গরম অনুভব করেন। গরম আর গন্ধের কারণে অনেকে বমি পর্যন্ত করেন। পরে তারা বুঝতে পারেন শ্রীরামপুর ফসলি জমিতে থাকা পিএমবি ব্রিকস ইটভাটা থেকে একসঙ্গে গ্যাস ও ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকেরা ক্ষেতে গিয়ে দেখেন, বিষাক্ত গ্যাস আর ধোঁয়ায় ক্ষেতের ধান ঝলসে গেছে। দুই মাঠে ১২০-১৩০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে বিঘা প্রতি ২০-৩০ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যেত, সেখানে এখন দুই-তিন মণ ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ইটভাটার মালিক গুলবর রহমান ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ করছি। যার যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেওয়া হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিকভাবে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর মাঠে বোরোর ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দুই-একদিনের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নওগাঁর উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের সঙ্গে ফ্লোরিন গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ফ্লোরিন গ্যাস বিষাক্ত এবং তা ফসল, ফল ও ফুলের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এ ছাড়া ইটভাটা ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হয়। যা ফসল ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর।