সাদেক আলীর পরিবারের সঙ্গে ওই গ্রামের মাতব্বরসহ কিছু লোকজনদের বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। তারাই বৃহস্পতিবার জমির ধান জোর করে কেটে নিয়ে সাদেক আলীল পরিবারকে একঘরে করে। এমনকি তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে গ্রামের কেউ কথা বললে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সাদেক আলীর বাবা গ্রামের পিরপালের ১ একর ৯২ শতাংশ জমির জিম্মাদার ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি জমির দেখভাল করছিলেন। এ জমিতে তিনি ইরি-বোরো ধান লাগিয়েছিলন। বৃহস্পতিবার সকালে সাদেক আলী লোকজন নিয়ে ধান কাটতে যান। এসময় গ্রামের প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে কিছু লোক তাদের ধান কাটতে বাধা দেয়। গ্রামের মাতব্বর আবু সালেসহ প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে কালাম, বাবু, সোলেমান, আব্দুর রউফ, রুহুল আমীন, লুৎফর, রুবেল, ফজলু মোল্লা, আব্দুস সাত্তারসহ ১০০-১২০ জন লোক মিলে ধান কেটে নিয়ে যায়। এরপর সাদেক আলীর পরিবারকে একঘরে করে রাখার ঘোষণা দেয় তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের অনেকেই জানান, একডালা ইউনিয়নের চেয়াম্যান রেজাউল ইসলামের মদতে বিদেশ ফেরত মতিউর রহমান দুলু, হবিবর রহমান, আবু সালে, আব্দুর রউফ, আজাহার আলী, কালামসহ গ্রামের লোকজন এবং কিছু বিএনপির নেতারা মিলে সাদেক আলীর পরিবারকে প্রায় ৩ মাস আগে একঘরে করে রেখেছিল। এরপর তার জমির গাছ, বাঁশ, পুকুরের মাছসহ প্রায় ২-৩ লাখ টাকার গাছ ও মাছ বিক্রি করে গ্রামে ভোজের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তার জমির ধান কেটে নিয়ে যায়।
একডালা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি তারা লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
একডালা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সমস্যা যাই হোক না কেন একজনের জমির ধান আরেকজন জোর করে কেটে নিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে না। এটি খুবই অন্যায় কাজ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান করতে আমি একাধিকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারি নাই।’
এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমার জানান, এই বিষয়টি সম্পন্ন নির্বাহী কর্মকর্তার বিষয়। নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে যা আদেশ করবেন আমি তাই করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।