রাণীনগরে শ্রমিক সংকটে ধান কাটায় ব্যাঘাত

 

মাঠে ধান কাটছেন কৃষকরানওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শুরু হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে । ঝড়ের মৌসুম হওয়ায় ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে ধান কাটার সময় নীলফামারি, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিকরা রাণীনগরে আসতো। কিন্তু এবার সেই এলাকার শ্রমিকরা আর আসছে না। তাই এই বছর ধান কাটা নিয়ে শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়েছে এই এলাকার কৃষকদের। এছারাও সম্প্রতি ঝড়ের কারণে পড়ে যাওয়া ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধানগুলো ঘরে তুলতে পারবেন কী না বর্তমানে এই আশঙ্কা রয়েছে এলাকার কৃষকদের মনে। তারপরও যে সব স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের দ্বিগুন পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, শ্রমিক খরচটা আরও সহজলভ্য হলে এলাকার কৃষকরা ধান চাষ করে আরও অনেক লাভবান হতো।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথাসময়ে সেচ দেওয়া এবং সার সংকট না থাকায় উপজেলার কৃষকরা জিরাশাইল, খাটো-১০, স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। নতুন ধান কাটার শুরুতেই বিঘা প্রতি ২০-২২ মন হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে।

উপজেলার কালিক গ্রামের গ্রামের কৃষক মাখন বলেন, ‘আমি এ বছর ২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথাসময়ে ভাল পরিচর্যা করায় আমার জমিতে ধান ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধান কাটা শুরু করেছি, ফলন ভালই হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা একটাই ধান কাটার শ্রমিক সংকট। ধান কাটার সময় এলেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। এখন শ্রমিকরা ৪৫০-৫০০ টাকা নিচ্ছে জন প্রতি ধান কাটতে।

 করজগ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বিঘা প্রতি ধান কাটতে ৩০০০-৪০০০ টাকা লাগছে। তাছাড়া পরিবহন খরচও আছে। এত চড়া দামে ধান কাটলে আমাদের ক্ষতি হবে এ বছর। আবার ধানের দামও ভাল না।’

উপজেলার আবাদপুকুর হাটের ধান ব্যবসায়ী মো. বছির আলী মিঠু জানান, রবিবার হাটে তেমন কোনও ধান আমদানি শুরু হয়নি। তবে টুকটাক বেচাকেনা হয়েছে। জিরা জাতের ধান প্রতি মণ   ৮৫০ থেকে ৮৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আশা করছি দুই চার দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান আমদানি শুরু হবে।’

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, ইরি-বোরো ধান লাগানোর শুরু থেকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকলেও বাজারে ধানের ভাল দাম থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা একটু সমস্যায় পড়েছেন।