রাজশাহীতে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের দাবি করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকের নাম মিজানুর রহমান (৩৮)। তিনি দৈনিক যুগান্তরের চারঘাট উপজেলা প্রতিনিধি। বুধবার বিকেলে চারঘাট পৌরসভার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা এবং ২২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
রাজশাহীর চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান মোটরসাইকেলে বাঘার মীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার সময় চারঘাট পৌরসভার সামনে পুলিশের চেকিং চলছিল। এ সময় পুলিশ তার মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে পকেট থেকে ৭০ পিস ইয়াবা এবং মোটরসাইকেলে থাকা আমের ব্যাগে ২২টি ফেন্সিডিলের বোতল পেয়েছে বলে দাবি করেন।
ওসি আরও জানান, মিজানুর রহমানের আত্মীয়-স্বজনের নামে মাদক ব্যবসার অনেক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
এদিকে যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো অফিসের স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হক জানান, গত ২৮ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তর ও স্থানীয় সানশাইনে ‘তল্লাশির নামে লুটপাট!’ শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশন করেন সাংবাদিক মিজান। প্রকাশিত ওই সংবাদের কারণে তাকে ফাঁসাতেই এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, ওই সংবাদে রাজশাহীর চারঘাট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে থানা এলাকার বাইরে গিয়ে তল্লাশির নামে নগদ টাকা ও স্বর্ণের গয়না লুটপাটের অভিযোগ করা হয়। বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর এলাকায় গরু ব্যবসায়ী আখতার হোসেনের বাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয়। আর ওই অভিযানে চারঘাট মডেল থানার তৎকালীন এসআই উৎপল কুমারের নেতৃত্বে এসআই শরিফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও তরিকুল ইসলাম অংশ নেয়। সংবাদটি যুগান্তর ও সানশাইন ছাড়াও অন্য গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া সদ্য বদলি হওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরীকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে এসআই উৎপলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। আর অন্য তিন এসআই শরিফুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও তরিকুল ইসলাম বর্তমানে চারঘাট থানায় কর্মরত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই সাংবাদিক মিজানকে ফাঁসানোর জন্য তারা উঠেপড়ে লাগে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক মিজানের ব্যাগ থেকে ফেনসিডিল ও ইয়াবা পাওয়া গেছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ সঠিক না।