প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি, বাসাবাড়িতে ছুটছেন তারা। নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি করছেন ভোটপ্রার্থনা। আর তাদের প্রচারণায় সকাল হতেই রাজশাহী নগরী হয়ে উঠছে সরগরম। ভোটপ্রার্থনাকে ঘিরে এখন প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে উৎসবের আমেজ।
সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর প্রতিটি রাস্তাঘাট ও অলি-গলি ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে। এদিকে, প্রার্থীদের যেন দাম ফেলার সময় নেই। সকাল হলেই তারা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। মাইকে চলছে প্রচার-প্রচারণা। মিছিল-মিটিংও থেমে নেই। বিকাল হলেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লা।
রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন, কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন ও সংরক্ষিত আসনে ৫২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এইসব প্রার্থীরা এখন প্রতিদিনই ছুটে বেড়াচ্ছেন নগরীর প্রতিটি মহল্লায়। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। শুধু মেয়র প্রার্থীরাই নয়, তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও দলবেঁধে ছুটে বেড়াচ্ছেন নগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন; চাইছেন ভোট। কর্মী-সমর্থকরা ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য চালাচ্ছে প্রচারণা।
নগরীর বুধপাড়া এলাকার রুহুল কুদ্দুস নামের এক ভোটার বলেন, ‘সারাদিন বাসায় কোনও না কোনও প্রার্থীর লোকজন আসছেই। হয় কাউন্সিল প্রার্থীর লোকজন, না হয় সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীর লোকজন, না হয় মেয়র প্রার্থীর লোকজন। কেউ না কেউ আসছেন ভোট চাইতে। আর ব্যানার-পোস্টারে তো অলি-গলি ছেঁয়ে গেছে। এসবে ভালোই লাগছে, ঈদ ঈদ।’
নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দুর রোড় বৌ বাজার এলাকার নতুন ভোটার শামীম হোসেন বলেন, ‘খুব মজা লাগছে। দেশের নাগরিক হিসেবে আমি প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দেবো। প্রার্থীরা আমার কাছে এসে ভোটপ্রার্থনা করছেন। আমার বন্ধুরা তো প্রার্থীদের হয়ে প্রচারণায় মেতেছে। মনে হচ্ছে, নগরীতে একটা উৎসব শুরু হয়েছে।’
নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি হাসপাতাল মোড় এলাকার বিপুল সাহা বলেন, ‘আমার বন্ধুরা বিভিন্ন প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে। আর আমাদের সব আড্ডা ভোটকেন্দ্রীক হয়ে গেছে।’
নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌদ্দপাই মোড় এলাকার জনি হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনি পোস্টারে আমাদের এলাকা ছেয়ে গেছে। সবার মধ্যে একটা উৎসব উৎসব ভাব শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের কাছে এতদিন আমাদের যেতে হয়েছে। এখন তারাই আমাদের কাছে এসে ভোটপ্রার্থনা করছে। এলাকায় চায়ের স্টলে চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা।’
নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল ইন্টার প্রাইজের মালিক বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘চলছে মাইকিং। ক্রেতারা দোকানে এসে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করেন, ভাই, ভোটের আবহাওয়া কেমন?’
নগরী ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িখড়বোনা এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমার চায়ের স্টল রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হচ্ছে। কারণ, অনেক রাত পর্যন্ত চা খেতে খেতে ভোট-গল্প চলে।’
আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহীতে ১৩৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার একলাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার একলাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন।