বগুড়া স্টেশনে দুই ট্রেন মুখোমুখি, অল্পের জন্য রক্ষা

বগুড়া রেলস্টেশন

বগুড়ায় লালমনি এক্সপ্রেস ও কলেজ ট্রেন মুখোমুখি হলেও যাত্রীদের চিৎকারে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সোমবার সকালে বগুড়া স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টারের দাবি, লালমনি এক্সপ্রেসের চালক ঘুমিয়ে থাকায় তিনি সিগন্যাল দেখেননি। আবার রেলের প্রকৌশল শাখা বলছে, স্টেশন মাস্টার বা পয়েন্টস ম্যানের দায়িত্বে অবহেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা পয়েন্ট অ্যান্ড ক্রোসিং সেটআপ না দিয়েই লালমনি এক্সপ্রেসকে স্টেশনে ঢুকার সিগন্যাল দিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গাইবান্ধার বোনারপাড়া ছেড়ে আসা সান্তাহারগামী কলেজ ট্রেন (নং-৪৯২) সোমবার সকাল পৌনে ৯টায় বগুড়া স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে ঢুকে। লোকাল এ ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের (নং-৭৫১) ক্রসিং-এর জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় লালমনি এক্সপ্রেস ১ নম্বর লাইনের পরিবর্তে ২ নম্বর লাইনে ঢুকে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দুই ট্রেনের যাত্রী ও স্টেশনের লোকজন চিৎকার দিতে থাকেন। তখন লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ব্রেক করলে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। কিছুক্ষণ পর ট্রেন দুটি স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যায়। এদিকে খবর পেয়ে রেলের বিভাগীয় ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান। দুপুর থেকে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

বগুড়ার স্টেশন মাস্টার বেঞ্জুরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে স্টেশন মাস্টার বেলাল হোসেন ও পয়েন্টস ম্যান আবুল কালাম দায়িত্বে ছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে কলেজ ট্রেন স্টেশনের ২ নাম্বার লাইনে ছিল। লালমনি এক্সপ্রেসের চালক ঘুমিয়ে ছিলেন। পয়েন্টস ম্যান পয়েন্ট অ্যান্ড ক্রোসিং সেটআপ দেওয়ার আগেই ট্রেনটি ১ নাম্বারের স্থলে ২ নাম্বার লাইনে ঢুকে পড়ে। কিন্তু যাত্রীদের চিৎকারে তিনি টের পেয়ে ব্রেক করে। এতে দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন দুটি রক্ষা পায়।

তবে রেলের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (পথ) দীপক কুমার সিংহ বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রকৌশল শাখার নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, এ ঘটনার জন্য স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টস ম্যান দায়ি। তারা পয়েন্ট অ্যান্ড ক্রোসিং সেটআপ না করেই লালমনি এক্সপ্রেসকে স্টেশনে ঢুকার সিগন্যাল দিয়েছে। তাদের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছিল। পয়েন্ট অ্যান্ড ক্রসিং সেটআপ ঠিক হলে চালক ঘুমিয়ে থাকলেও ট্রেন ঠিক ১ নম্বর লাইনেই ঢুকতো। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।