এদিকে এই ঘটনায় প্রধান আসামি কালামকে দ্বিতীয় দফায় দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া আদালত ৩ শিশু আসামিকে জেল সুপারের মাধ্যমে যশোরের পুলেরহাট শিশুকিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানের নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ঘোলাগাড়ি গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালাম (২৮), খাদাস মাঠাপাড়ার রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল (৩৬), খাদাস রাজবাড়ির জাহিদ হাসান (১৭), খাদাস স্কুলপাড়ার মাসুদ রানা (১৯), খাদাস তালুকদারপাড়ার সেলিম রেজা (২০), খাদাস স্কুলপাড়ার বোরহান আলী (১৪), খাদাস তালুকদারপাড়ার সজিব হাসান (১৯), একই পাড়ার বায়োজিদ হোসেন (১৫) ও মেহেদী হাসান (২০) এবং খাদাস হাটখোলাপাড়ার মফিজুল ইসলাম (২০)।
পলাতক রয়েছেন, খাদাস ভোলাবাড়ির সাগর (১৯)। এদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদানকারীরা হলেন- রাজু মিয়ার ওরফে পাঁচফুল, জাহিদ হাসান, মাসুদ রানা, সেলিম রেজা, বোরহান আলী, সজিব হাসান ও মফিজুল ইসলাম (২০)।
পুলিশ জানায়, শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটপাড়া গ্রামের এনামুল হক দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে খাদাস বাজারে ভুষিমালের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় রিফাত স্থানীয় স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়তো।
১৫ জুলাই রবিবার রাত ৮টার দিকে রিফাত বাজারে তাদের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। ১৬ জুলাই সকালে জনৈক ব্যক্তি তাকে (এনামুল) ফোন করে ছেলে রিফাতকে অপহরণের কথা জানায়। মুক্তির বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকাগুলো নিয়ে জামাদারপুকুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে এবং পুলিশকে না বলতে বলা হয়।
এনামুল এই ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় ডায়েরি করেন। ১৮ জুলাই সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী নদীর সিংহবাড়ি সেতুর নিচে কচুরিপানায় ঢাকা রিফাতের লাশ পাওয়া যায়।
নিহতের বাবা এনামুল পুলিশকে জানান, ঘটনার দিক সকালে একই গ্রামের কালাম তার কাছে এক লাখ টাকা ধার চেয়েছিল। তার ধারণা, টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ কালাম তার ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করেছে।
এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ৩ দিনের রিমান্ডে এনে কালামকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সে মুখ খোলেনি। এরপর মুক্তিপণ দাবি করা ওই মোবাইল ফোনের নম্বর যাচাই করে খুনিদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার করা হয় সজিব হাসান নামে এক অটোরিকশা চালককে। হত্যায় কারা জড়িত ও কীভাবে শিশু রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেয় সজিব।
সে জানায়, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় কালাম ও পলাতক সাগর জমাদারপুকুর এলাকা থেকে তার অটোরিকশায় ওঠে। কিছু দূর যাওয়ার পর পাখি দেখানোর কথা বলে রিফাতকে নিয়ে পাঁচফুল, মেহেদী এবং বায়েজিদ অটোতে ওঠে। একটু দূরে মফিজুল তার অটোতে ওঠে। পেছনে একটি অটোভ্যানে জাহিদ, বোরহান, মাসুদ ও সেলিম ছিল। তারা সবাই ভদ্রাবতী নদীর সিংগবাড়ি সেতুর কাছে নামে। কালাম, সাগর ও মফিজুল রিফাতকে নিয়ে নদীতে নামে। মফিজুল শিশুর পা ও কালাম হাত ধরে এবং সাগর শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করে। এরপর নদীর কচুরিপানার ভেতর ফেলে দেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ১০ আসামির মধ্যে উল্লিখিত সাতজন রবিবার ও সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি কালামকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। নতুন গ্রেফতার মেহেদী হাসান ও বায়েজিদকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হবে। তারা স্বীকারোক্তি না দিলে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।
খুনের কারণ সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধান আসামি কালাম জানতো বিদেশ ফেরত এনামুল হকের ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা আছে। তাই সে বার বার তার কাছে টাকা ধার চাইতো। ঘটনার দিন সকালেও এক লাখ টাকা ধার চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তার শিশু সন্তান রিফাতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল কালাম। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে প্রথম দিনেই শিশুটিকে হত্যার করা হয়। পরদিন মোবাইল ফোনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল।